মা শিল্পা রায়ের সঙ্গে অরণ্যফাইলচিত্র
Published on
:
2 min read
রূপক মজুমদার, বর্ধমান
বর্ধমান শহরের নবাবহাটের একটি নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অপারেশন করাতে গিয়ে চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুর পরে কেটে গিয়েছে প্রায় ৫০ দিন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সায়দুল হক, অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-সহ ছ'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগ, এত কিছুর পরেও আজও একের পর এক হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে মৃতের মা শিল্পা রায়কে।
তাঁর অভিযোগ, গত সাত-দশ দিনে তাঁর কাছে প্রায় ১০০-১৫০টি উড়ো ফোন এসেছে। কখনও কেন্দ্রীয় আধিকারিক, কখনও সিবিআই বা অ্যান্টি করাপশন ডিপার্টমেন্টের নাম করে তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি এআই-এর সাহায্যে বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে শিল্পাকে। সেই ঘটনায় মন্তেশ্বর থানার পুলিশ হুগলি থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করে। শুক্রবার শিল্পা অভিযোগ করে বলেন, 'পুজোর মধ্যেও একের পর এক ফোন এসেছে। তাতে কেউ কখনও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন, কেউ আবার হুমকি দিয়েছেন। আবার একজন ফেসবুক থেকে ফোন নম্বর জোগাড় করে কুপ্রস্তাবও দিয়েছেন আমাকে। সব নম্বর ব্লক করেছি। আবার নতুন নম্বর থেকে ফোন আসছে।'
শিল্পার বক্তব্য, 'অ্যান্টি করাপশন বিভাগ থেকে ফোন করার নাম করে বলেছে, পুলিশ, সিআইডি কেউ কিছু করতে পারছে না, তাই তারা নাকি তদন্ত করবে। আবার কেউ বলছে, সিবিআই তদন্ত করবে। বার বার আমার কাছে ছেলের মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে তা জানতে চাইছে। অরণ্যকে হারানোর যন্ত্রণাটাই কি ওরা আমাকে বার বার মনে করাতে চাইছে?' পাশাপাশি যে দালালের মাধ্যমে নবাবহাটের নার্সিংহোমে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই দালাল কৌশিক দত্তর স্ত্রী মৌ দত্ত-ও তাঁকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ শিল্পার। তিনি বলেন, 'মৌ দত্ত ফোন করে বলছেন যে তাঁর স্বামীর কোনও দোষ নেই। বলছেন মামলা তুলে নিতে। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছি এদের বিরুদ্ধেও যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।'
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ অপরিচিত বা অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন রিসিভ না-করার এবং বিষয়টি থানায় জানানোর পরামর্শ দিয়েছে শিল্পাকে। পূর্ব বর্ধমান জেলা সাইবার ক্রাইম থানা সব ফোন নম্বর ও মেসেজ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সুবিমল সাহার বক্তব্য, 'অভিযুক্তরা যাতে সাক্ষ্যদানকে প্রভাবিত করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লোক দিয়ে ফোন করাচ্ছে। তাই তদন্তকারী অফিসার বা সরকারি আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে এই বিষয়ে কথা না বলাই উচিত।' পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় কাস্টডি ট্রায়াল ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সব তথ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র জোগাড় করা হচ্ছে।
