সম্প্রতি মাস্টার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়েছে এবং বিশ্বের এ বছরের সেরা সিনেমাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
প্রথম সিনেমা ‘নোনা জলের কাব্য’ দিয়ে দর্শকের নজরে আসেন তরুণ নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ সাতটি বিভাগে পুরস্কার পায়। তার নির্মিত দ্বিতীয় সিনেমা ‘মাস্টার’ও এ বছর আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও স্বীকৃতি পেয়েছে। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
রটারড্যামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে মাস্টার প্রদর্শিত হয়েছে। এ স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখছেন?
সম্প্রতি মাস্টার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়েছে এবং বিশ্বের এ বছরের সেরা সিনেমাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। এটি আমাদের জন্য বড় একটি পাওয়া ও সম্মানের বিষয়। সম্প্রতি ইতালির ‘লুক্কা’ চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে মাস্টার জিতে নিয়েছে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার। এটি উৎসবের মূল অ্যাওয়ার্ড। আঞ্চলিক উৎসব হলেও লুক্কার বেশ সুনাম রয়েছে। তাসকানি অঞ্চলের এ ঐতিহ্যবাহী ছোট্ট শহরটিতে মূলত হলিউড ও ইউরোপের প্রথম সারির তারকারা একত্র হন। এবার এসেছিলেন নিকোলাস উইন্ডিং রেফন, নান্নি মোরেত্তি, জুলিয়ান শ্নেবেলের মতো বিশ্বখ্যাত নির্মাতারা। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার প্রতিযোগিতা বিভাগটিও ছিল জমজমাট। এ গৌরবের অংশ হতে পেরে আমাদের দারুণ লাগছে।
বিদেশে মাস্টারের প্রদর্শনীতে এমন কোনো মুহূর্ত কি ছিল, যা আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত বা আপ্লুত করেছে?
মাস্টার চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমি এখন পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সশরীরে উপস্থিত ছিলাম। প্রথমটি রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, যে আসরে আমাদের সিনেমা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসহ ৩০ হাজার ইউরো জিতে নেয়। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ারের জন্য আমি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম। দুটি উৎসবেই আমার বেশকিছু স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। রটারড্যামে একদিন উৎসবের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর ভানিয়া কালুজেরচিচ আমাদের জন্য একটি রিসিপশন প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। তিনি আমার মাস্টার সিনেমার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্টেট থিয়েটারে। সেখানে বহু মানুষের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কিছু প্রবাসী ভাই ও বোনের সঙ্গেও দেখা হয়; উৎসবের একমাত্র বাংলাদেশী চলচ্চিত্র হিসেবে আমাদের সিনেমাটিকে দেখেন। সেই সঙ্গে আমাকে কাছে পেয়ে তারা যেমন অবাক হয়েছেন, তেমনি ভীষণ গর্বিত ও আনন্দিত হয়েছেন। সত্যি বলতে, বিদেশ-বিভুঁইয়ে নিজের দেশের মানুষকে এভাবে আবেগে আপ্লুত করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
নির্মাতা হওয়ার ইচ্ছাটা কীভাবে তৈরি হলো? এটাকেই কি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, নাকি অন্য কোনো পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন?
চলচ্চিত্রকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। বলা যায়, চলচ্চিত্রের সঙ্গেই আমার প্রাত্যহিক বসবাস—২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাতদিন, বছরে ৩৬৫ দিন। তবে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ডেভেলপ করতে ও সঠিকভাবে গুছিয়ে আনতে অন্তত দুই-তিন বছর সময় লেগে যায়। তাই একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থেকে আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজও করি। যেমন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিল্ম, টেলিভিশন অ্যান্ড ফটোগ্রাফি’ বিভাগ এবং ‘বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’-এ শিক্ষকতা করি। জাতিসংঘের জলবায়ু সেক্রেটারিয়েট ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়মিত কাজ করা হয়।
সত্যি বলতে, চলচ্চিত্র নির্মাণ বা শিল্পের মতো মাধ্যমকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার ভেতরে যেমন ভাব প্রকাশের আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি আছে, তেমনই আছে নানামুখী অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি। কিন্তু এ জায়গায় আমি পরিবারের কাছ থেকে সবসময় সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছি। তাই এদিক থেকে আমি আমার বাবা-মা ও পরিবারের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আপনার সিনেমার ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলে থাকে?
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা আজ থেকে ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস’ সেকশনে। সেবারই প্রথম অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সার্কিট কতটা সংগঠিত একটি মেশিনের মতো এবং সেখানে শিক্ষা ও মেধার মূল্য কতখানি। প্রতিটি বিদেশ যাত্রার অভিজ্ঞতাই আমাকে আমার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নতুন করে ভাবিয়েছে। বিদেশের মাটিতে বিভিন্ন ধারার নির্মাতাদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাওয়ার ফলে যে আলোচনা ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান হয়, তা দুই পক্ষের জন্যই চিন্তার নতুন দুয়ার খুলে দেয়। তাই আমি মনে করি, দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া বা উৎসবে আমন্ত্রিত হওয়ার সুযোগ এলে নতুনদের তা সানন্দে লুফে নেয়া উচিত।
বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার উপস্থিতি ও স্বীকৃতির এ পরিবর্তনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বেশকিছু চলচ্চিত্র সুনাম কুড়িয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলা চলচ্চিত্রের এ অগ্রযাত্রা মূলত পরিচালক, অভিনয়শিল্পী এবং কুশলীদের একক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল। আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অবকাঠামোয় এমন কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসেনি, যার কারণে এ সাফল্য এসেছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো খাত থেকেই এ শিল্পে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসেনি, এমনকি চলচ্চিত্রবান্ধব নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এ প্রতিটি সাফল্যই আমাদের নির্মাতাদের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবং প্রতিকূল পাহাড় ডিঙিয়ে ছিনিয়ে আনতে হচ্ছে।
বিদেশী দর্শকের কাছে বাংলাদেশের গল্প পৌঁছতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?
যেসব নির্মাতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটি স্বকীয় ভয়েস বা কণ্ঠস্বর রয়েছে। প্রতিটি কাজের ভেতরই তারা নিজেদের সিগনেচার রেখে যান। গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে পরিবেশনা, সিনেমাটোগ্রাফি, ব্লকিং কিংবা সাউন্ড ডিজাইন—চলচ্চিত্রের প্রতিটি অনুষঙ্গ নিয়েই তারা গভীরভাবে ভাবেন। তাই ওয়ার্ল্ড সিনেমার বর্তমান ভাষাকে রপ্ত করেই গল্পটি বলতে হয়। কিন্তু সে গল্পের শিকড় বা গঠন হতে হয় একেবারেই আমাদের বাংলা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ভেতর। এটি খুব সূক্ষ্ম একটি ভারসাম্য। আপনি বিশ্ব চলচ্চিত্রকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে পারবেন না, আবার নিজের মৌলিকত্বকেও হারিয়ে ফেলা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে কেবল চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়া বা পুরস্কার জেতাই মূল উদ্দেশ্য হতে হবে। পুরস্কার বা উৎসব নিশ্চয়ই একজন নির্মাতার ক্যারিয়ার ও কাজের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে, তবে সেটাই তো আর চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার এ স্বীকৃতি দেশের চলচ্চিত্রে কী ধরনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে?
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কোনো একটি ছবি যখন পুরস্কার পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে একজন সেলস এজেন্ট যুক্ত হন। সেলস এজেন্ট যুক্ত হওয়ার বড় সুবিধা হলো তারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছবিটির বাজার ও সম্ভাবনাকে নিরূপণ করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে পরিবেশকদের কাছে সিনেমাটিকে উপস্থাপন করে বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করেন। ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্লাটফর্ম, টেলিভিশন, ইম্প্যাক্ট স্ক্রিনিং কিংবা একাডেমিক স্ক্রিনিংয়ের মতো বহুবিধ মাধ্যম উন্মুক্ত হয়, সেগুলো থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। এটি যেমন একদিক, অন্যদিকে এ সাফল্যের মাধ্যমে নবীন নির্মাতাদের জন্যও নতুন পথ সুগম হয়। আমাদের প্রজন্মও এখন সেই একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং আরো বড় স্বপ্ন দেখছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে গিয়ে আমরা ফেস্টিভ্যাল প্রোগ্রামার, ট্যালেন্ট এজেন্ট, সেলস এজেন্ট, ফান্ড ম্যানেজার ও বাজারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি।
একদিকে বাংলাদেশের সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের হল কমছে এবং বাণিজ্যিক সিনেমা সংকটে—এ বৈপরীত্যের কারণ কী?
দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা দিন দিন কমছে, কারণ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির যে সুদৃঢ় মেলবন্ধন বা যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন, তা সঠিকভাবে হচ্ছে না। এ সেতুবন্ধন তৈরির দায়িত্ব মূলত সরকারের। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা কোনো খাতে তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন করছাড়সহ (ট্যাক্স ব্রেক) নানা সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পান। দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডা (BIDA) যেভাবে কাজ করছে, ঠিক একইভাবে যদি একটি ‘ফিল্ম কাউন্সিল’ থাকত, তবে তারা এসব বিষয় নিয়ে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারত। আমার মতে, দেশের প্রতিটি বিপণন কেন্দ্র বা শপিং মলে অন্তত দুটি বা তিনটি করে স্ক্রিন থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত; পাশাপাশি সিনেপ্লেক্সগুলোর টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। এছাড়া প্রচলিত অনুদান প্রথার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণের জন্য বড় আকারের একটি তহবিল বা ফান্ড গঠন করা দরকার। কারণ চলচ্চিত্র ডিস্ট্রিবিউশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কেবল একজন নির্মাতার দায়িত্ব হতে পারে না, এর জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিনেমা নিয়ে আপনার আগামী পরিকল্পনা কী?
আমার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে ‘তুফান আইতেছে’ (The Tide is Rising)—এটি একটি প্রামাণ্যচিত্র। ছবিটির গল্প গড়ে উঠেছে আমার প্রথম চলচ্চিত্র নোনাজলের কাব্যর শুটিং স্পট, সে গঙ্গামতী চরকে কেন্দ্র করে। সাগর ধীরে ধীরে সেখানকার ২২ ঘর জেলের বসতভিটা গিলে খায় এবং মানুষগুলো বাস্তুহারা হয়ে পড়ে। ২০২১-২৪ সাল পর্যন্ত একটি সীমিত পরিসরের, কিন্তু সচেতন ডকুমেন্টারি প্রডাকশন টিম নিয়ে বহুবার সেখানে গিয়েছি। তাদের জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এবার ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছি। বরাবরের মতোই এ চলচ্চিত্রেও প্রচলিত ব্যবস্থা বা সিস্টেমের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। তবে আমি চেয়েছি, পুরো গল্পটা যেন জেলেদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উঠে আসে। এখানে স্থান পেয়েছে জেলে ভাইদের, তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে বলা নিজস্ব গল্প, তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং তাদের স্বপ্ন ও চাওয়া-পাওয়ার কথা। এক কথায়, বালুচরে নেমে এ জেলেদের সঙ্গে দিনরাত কাটানো ও নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়েই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
