হবিগঞ্জের মাধবপুরে বরের বয়স ২১ না হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। পরে বরের চাচাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করা হয়। এতে বরের বয়স বিয়ের উপযুক্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বরের চাচা মজিদ রহমানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বর ও কনের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় বর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে অঙ্গীকার করেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় এক মুরুব্বি জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় প্রথমে কনের সম্মতি নেওয়া হয়। এরপর বরের সম্মতি নেওয়ার সময় প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হন। আর কয়েক মিনিট দেরি হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যেত।
কনের বাবা জানান, তার মেয়ের বয়স (১৯ বছর ৫ মাস) বিয়ের উপযুক্ত হলেও বরের বয়স কম ছিল। এ কারণে প্রশাসন বিয়ে বন্ধ করে দেয়। বিয়ের আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা খাবার নষ্ট হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বরের চাচা মজিদ রহমান বলেন, আমরা বর নিয়ে কনের বাড়িতে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্রশাসনের লোকজন বিয়েবাড়িতে হাজির হন। পরে বরের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে বয়স কম (১৮) পাওয়ায় অভিভাবক হিসেবে আমাকে জরিমানা করা হয়। এরপর আমরা বরযাত্রী নিয়ে না খেয়েই চলে আসি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায় জানান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে নির্মূল করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সরকারি আইন অনুযায়ী মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স ২১ বছর।
