আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের সন্তানকে হারানোর অসহ্য যন্ত্রণা এখনও তাজা। তারই মধ্যে ছেলের মতো বাংলার আরও প্রতিভাবান সাঁতারুদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার আর্জি জানালেন অনুকূল সরকার। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ছেলেকে হারিয়েছেন তিনি। বুধবার ঘটনায় পদপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হওয়া বছর ১৩-র প্রাঞ্জল সরকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
অনুকূল সরকার জানান, তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, অনুকূলবাবুকে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারি আর্থিক সাহায্যের চেকও অনুকূল সরকারের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে সেই সাহায্য নিতে চাননি তিনি। তবে সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে চেকগুলি গ্রহণ করতে বলেন। শেষ পর্যন্ত সম্মান জানিয়ে সেই সাহায্য গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন অনুকূলবাবু।
এখানেই শেষ নয়, অনুকূলবাবুর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুকূলবাবুর দাবি, তাঁর সামনেই জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক মাস পর শোকের আবহ কিছুটা কাটলে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
অনুকূল সরকারের কথায়, তাঁর স্ত্রীকে নিজের বোনের মতো বলে সম্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর ভাইফোঁটা নেওয়া সম্ভব না হলেও আগামী বছর তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ভাইফোঁটা নিতে আসবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও ছেলের স্বপ্ন এবং বাংলার সাঁতারুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অনুকূল সরকার। তাঁর ছেলে জাতীয় স্তরের সাঁতারু ছিল। ছেলের সাঁতারের লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে যে সমস্ত পরিকাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেগুলি চিঠির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদন, সেই সমস্যাগুলির সমাধান হলে বাংলার আরও অনেক প্রতিভাবান সাঁতারু উঠে আসতে পারবে। ছেলেকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও অন্য সাঁতারুদের ভবিষ্যৎ গড়ার এই আবেদনই এখন অনুকূল সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
