বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ, প্রসার এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬।
‘মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা, বরিশাল’-এর আয়োজনে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।
সম্মেলনের শুরুতে সকালে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় মূল সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠ পুত্র ও শিল্পানুরাগী প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও কারুশৈলী তুলে ধরা হয়। এ উপলক্ষে মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনাসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পসামগ্রী প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া মৃৎশিল্পীরা সম্মাননা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দাবি করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলে আসা এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে মাটির সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করছে। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে ও সন্তানদের পরিচিত করাতেই তাঁরা এখানে এসেছেন।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাধারণ মানুষকে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ধরনের আয়োজন প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেএইচআর
