এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ছুটে ঠাকুর দেখার পালা চলছে। রাত বাড়লেও উৎসাহে ভাটা নেই। চোখে ঘুম এলেই এক কাপ কফি, তাতেও ক্লান্তি না কাটলে আরও এক কাপ। পুজোর রাতে জেগে থাকতে অনেকেই কফির উপর ভরসা করেন। কিন্তু সাময়িক ভাবে ঘুমের ভাব কাটাতে গিয়ে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দটাই নষ্ট করছেন না তো? ক্যাফিনের প্রভাবে ঘুম আসতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি কমতে পারে ঘুমের মোট সময়ও।
ঘুমকে ঠেকিয়ে রাখে ক্যাফিন
কফির অন্যতম সক্রিয় উপাদান ক্যাফিন। মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামে একটি রাসায়নিকের প্রভাবে ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়। ক্যাফিন এই রাসায়নিকের রিসেপ্টরগুলিকে বাধা দেয়। ফলে ক্লান্তি থাকলেও সাময়িক ভাবে ঘুম ঘুম ভাব কমে যায় এবং সতর্কতা বাড়ে। তবে ক্যাফিন শরীরের ঘুমের প্রয়োজন মেটায় না, শুধু ঘুমের অনুভূতিকে কিছুক্ষণের জন্য আড়াল করে।
ঘুম এলেও বিশ্রাম হচ্ছে তো?
স্লিপ মেডিসিন রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য়ে দেখা গিয়েছে, ক্যাফিন গ্রহণের সঙ্গে ঘুমের মোট সময় কমে যাওয়া, ঘুম আসতে বেশি সময় লাগা এবং ঘুমের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নাও হতে পারে।
ক্যাফিনের প্রভাব কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সাধারণত শরীরে ক্যাফিনের পরিমাণ অর্ধেক হতে প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে, যদিও ব্যক্তিভেদে এই সময় বদলায়। তাই সন্ধ্যায় কফি খেলে মধ্যরাতেও তার প্রভাব থাকতে পারে। রাতে ঘুমের কাছাকাছি সময়ে বারবার কফি খেলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

পরদিনও ভুগতে পারে শরীরকে
ঘুমের ঘাটতি হলে পরদিন ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই ক্লান্তি কাটাতে আবার কফি খেলে পরের রাতেও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এ ভাবে ঘুমের ঘাটতি ও ক্যাফিনের উপর নির্ভরতার চক্র তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফিনের কারণে কারও কারও বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, উদ্বেগ বা পেটের অস্বস্তিও দেখা দেয়। যাঁদের আগে থেকেই ঘুমের সমস্যা বা হৃদ্স্পন্দনের অনিয়ম রয়েছে, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কফি খান, তবে বুঝেশুনে
পুজোয় কফি একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে ঘুমের সময়ের কাছাকাছি কফি না খাওয়াই ভালো। ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেল থেকেই ক্যাফিন এড়িয়ে চলাই ভালো। কফির পাশাপাশি চা, ঠান্ডা পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক থেকেও ক্যাফিন শরীরে ঢোকে, তাই সেগুলির পরিমাণও মাথায় রাখা জরুরি।
পুজোর আনন্দে রাত জাগতেই পারেন, তবে ক্লান্তি কাটাতে বারবার কফির উপর নির্ভর না করাই ভালো। কারণ, ক্যাফিন ঘুমের অনুভূতিকে পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজন মুছে দিতে পারে না।
