ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হাজার গোলের সম্ভাব্য মাইলফলক নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। হাজারের পথে তার প্রতিটি গোল ধরে গণনা চলছে রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা নিয়ে। কিন্তু আরও একজন তো খুব বেশি পিছিয়ে নেই, বরং দারুণভাবেই ছুটে চলেছেন একই পথ ধরে! সেই আলোচনার পালেও এবার হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। ইন্টার মায়ামির কোচ কিলি গন্সালেস তো নিশ্চিত, হাজার গোলের ঠিকানায় পৌঁছে যাবেন লিওনেল মেসি।
গন্সালেসই অবশ্য প্রথম নন। কয়েক মাস আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও বলেছিলেন, হাজার ছোঁয়া খুবই সম্ভব মেসির জন্য। এবার একই প্রসঙ্গ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মেসির দর্শনীয় দুটি গোলের পর।
মেজর লিগ সকারের ম্যাচটিতে আটলান্টার রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে চোখধাঁধানো দুটি গোল করেন মেসি। তার ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এখন ৯৩৬টি।
হাজার গোল কি সম্ভব? ম্যাচের পর এই প্রশ্ন করা হলে ইন্টার মায়ামি কোচ বললেন, তার মনে কোনো সংশয়ই নেই।
“হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি সে ১ হাজার গোল করবে। এ ব্যাপারে আমার পুরোপুরি আস্থা আছে। আমি জানি সে অবশ্যই পারবে। কারণ সে চ্যালেঞ্জ ভালোবাসে, সে নিজের জন্য নিজেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে এবং যেহেতু এর মধ্যেই অন্য সবকিছু অর্জন করেছ ফেলেছে, এটিও ব্যতিক্রম হবে না।”
মেসির বয়স যদিও ৩৯ পেরিয়ে গেছে। তবে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, সেটি ফুটবল ইতিহাসে তার মতো করে আর কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। এই ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসেও তার পারফরম্যান্সে মধ্য গগণের তেজ দেখা যায় নিয়মিতই।
গত বিশ্বকাপে তিনি অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। এবারের মেজর লিগ সকারে তার গোল এখন ২৫টি। গোলের তালিকায় দুইয়ে থাকা পিটার মুসা পেছনে আছেন ছয় গোলে!
এছাড়াও মায়ামি অধিনায়ক গোলে সহায়তা করেছেন ১৫টিতে। এখানে তিনি যৌথভাবে সর্বোচ্চ। মেজর লিগ সকারে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫ অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার তিনিই।
ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে তিনি গোলে অবদান রেখেছেন সবশেষ টানা ১৩ ম্যাচে। তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারা এটি।
টানা তিন মৌসুমে মেজর লিগ সকারের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জয়ের ইতিহাস গড়ার হাতছানিও আছে তার সামনে।
সব মিলিয়ে তার সেরা সময় যেন কখনোই শেষ হওয়ার নয়। কোচ গন্সালেসেরও যেমন মুগ্ধতা ও বিস্ময়ের শেষ নেই। মেসির সঙ্গে ক্লাবের ও নিজের সম্পর্কের রসায়নের কথাও বললেন তিনি।
“বিশ্বকে বিস্মিত করতে তার কখনও ভুল হয় না। মানে, আমি সত্যি বিশ্বাস করতে পারি না যে তার মতো একজন মানুষ… ৩৯ বছর বয়সে… যা করছে, তা করেই চলেছে। যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়, তা হলো, তাকে সত্যিই সুখী দেখতে পাওয়া। যেহেতু সে সুখী, তাই সে তার সর্বস্ব দিয়ে দেয়। নিজেকে উপভোগ করে সে এবং এখানে নিজেকে একেবারে ঘরের মতো স্বচ্ছন্দ বোধ করে।
“আমি যেমনটা সবসময় বলি, সে আমাদের প্রতিদিন আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। তাকে এখানে পাওয়াটা অপরিসীম আনন্দের। আমাদের সম্পর্কটা যে কতটা বিশেষ, তা সবাই জানে। যখনই আমি তাকে দেখি, সে আমার মুখে হাসি এনে দেয়। আমি এখনও প্রতিনিয়ত তার মাধ্যমে বিস্মিত হই।”
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে মায়ামি কোচের আশা, আরও অনেক দিন এভাবে মাঠ মাতিয়ে যাবেন তাদের জাদুকর।
“অনুশীলনে যতবারই তাকে দেখি, তার প্রতিটি কাজই আমাকে মুগ্ধ করে। আমি সত্যিই আশা করি, যেদিন সে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিন পর্যন্ত সে আমাদের বিস্মিত করে যাবে। আশা করি, সেই সময়ের এখনও অনেক দিন বাকি আছে।”
