মাগুরায় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে শাকের হোসেনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পাশের কাউন্টারের কর্মীরা। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে বাস টার্মিনালে এসে শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি।
এদিকে যুবদল নেতাকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়া হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
এ ঘটনায় মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস জানান, নিহতের মাথার পেছনের দিকে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেখান থেকে গুলির একটি অংশ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
