বলিউডে অভিনয় করে পেয়েছেন পরিচিতি, খ্যাতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা। কেউ রোমান্টিক চরিত্রে, কেউ অ্যাকশন কিংবা নাচের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছেন দর্শককে। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি সিনেমার জগতে কাজ করছেন। কারও ব্যক্তিগত জীবন, কারও অভিনয় আবার কারও তারকাখ্যাতি নিয়ে আলোচনা লেগেই থাকে।
তবে এসব অভিনেত্রীর পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব। ভারতীয় সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের কেউ যুক্তরাজ্য, কেউ কানাডা, আবার কেউ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ফ্রান্সের নাগরিক। বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। ‘রাজি’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’, ‘গাল্লি বয়’ ও ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি।
অভিনেতা রণবীর কাপুরের সঙ্গে সংসার করছেন। বাবা পরিচালক মহেশ ভাট ভারতীয় হলেও আলিয়ার মা সোনি রাজদান ব্রিটিশ নাগরিক। আলিয়ারও রয়েছে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব। বিদেশ থেকে এসে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ।
মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী পরে জায়গা করে নেন হিন্দি সিনেমার প্রথম সারিতে। ‘নমস্তে লন্ডন’, ‘এক থা টাইগার’, ‘জাব তাক হ্যায় জান’ ও ‘টাইগার ৩’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ক্যাটরিনার জন্ম হংকংয়ে।
তার মা ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় ক্যাটরিনার নাগরিকত্বও যুক্তরাজ্যের। অভিনেতা ভিকি কৌশলকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এই তারকা। দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে কাজ করলেও তার জাতীয় পরিচয় ব্রিটিশ।
মিস শ্রীলঙ্কা থেকে বলিউডের পরিচিত মুখ- জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের যাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০০৯ সালে হিন্দি সিনেমায় অভিষেকের পর ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। ‘কিক’, ‘রেস ২’ ও ‘হাউসফুল ২’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
জ্যাকুলিনের জন্ম বাহরাইনে। তবে তার নাগরিকত্ব শ্রীলঙ্কার।
প্রচলিত বলিউডি ধারার বাইরে গিয়ে অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন কল্কি কোয়েচলিন। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ‘দেব ডি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি পান তিনি। পরে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ও ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ভারতীয় সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করলেও কল্কির পারিবারিক শিকড় ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা-মা ফরাসি বংশোদ্ভূত এবং কল্কি ফরাসি নাগরিক।
নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন মনীষা কৈরালা। ‘বম্বে’, ‘খামোশি’ ও ‘দিল সে’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। অভিনয়দক্ষতা ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতির কারণে অল্প সময়েই পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী।
নেপালের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত কৈরালা পরিবারের সদস্য মনীষা। ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়লেও তার নাগরিকত্ব নেপালের।
‘রকস্টার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান নার্গিস ফাখরি। রণবীর কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। পরে ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’ ও ‘ম্যায় তেরা হিরো’র মতো সিনেমায়ও দেখা গেছে তাকে।
নার্গিসের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তার বাবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং মা চেক বংশোদ্ভূত। বলিউডে কাজের মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকের কাছে পরিচিতি পেলেও তার নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।
বলিউডের নাচের গানে নোরা ফাতেহির উপস্থিতি মানেই বাড়তি আকর্ষণ। ‘দিলবার’, ‘সাকি সাকি’ ও ‘গরমি’র মতো গানে পারফরম্যান্স তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
শুধু হিন্দি সিনেমা নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। মরক্কোর বংশোদ্ভূত নোরার জন্ম কানাডায়। তার নাগরিকত্বও কানাডার।
বিনোদনজগতের ভিন্ন এক পটভূমি থেকে এসে বলিউডে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন সানি লিওন। ‘জিসম ২’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেকের পর একাধিক সিনেমা ও নাচের গানে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে তাকে।
সানির জন্ম কানাডায়। তার পারিবারিক শিকড় ভারতের সঙ্গে যুক্ত হলেও নাগরিকত্ব কানাডার।
ডিসি/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
