অনলাইন ডেস্ক
সরকার এখন পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু ব্যবসায়ী ও তেল কোম্পানির মালিকানাধীন কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করছে, যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা জানান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এটা আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই। তেল একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্য, যার দাম নির্ধারণে ‘ট্যারিফ কমিশন’ একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা ব্যবহার করে। তবে এই ফর্মুলাটি প্রায় ১৪ বছর আগে তৈরি এবং বর্তমান বাজার বাস্তবতায় এটি আর প্রযোজ্য নয় বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও জানান, আমি ইতিমধ্যে আইসিএমএবি এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ওঈঅই)কে এই ফর্মুলা নতুনভাবে বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব দিয়েছি। আইসিএমএবি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে ওঈঅই-এর প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। তাই এই অবস্থায় তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি হবে কী হবে না, সেটি পুরোপুরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাস্তব বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। এখনও পর্যন্ত সরকার এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তেল কোম্পানির ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশনের প্রেস রিলিজের কোনো বৈধতা নেই, যতক্ষণ না সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। আমি অনুমোদন দিইনি, তাই প্রেস রিলিজ প্রকাশের প্রশ্নই আসে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তেল কোম্পানির মালিকানাধীন কিছু গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে। আমি তাদের অনুরোধ করছি, এ ধরনের সংবেদনশীলতা না তৈরির জন্য। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা দ্রুততম সময়ে আইসিএমএবি ও আইসিএবি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবো। সরকার প্রয়োজনে রাজস্ব ও মূল্য সমন্বয়ের সক্ষমতা ব্যবহার করবে, যেন বাজারে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়।
