জাতীয় শিবির ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ায় কিছু দিন আগেই পর্তুগাল নিলম্বিত করেছে তাঁকে। তার পরেই এক সাক্ষাৎকারে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ঘোষণা করে দিলেন, তিনিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। স্বাভাবিক ভাবেই রোনাল্ডোর এই দাবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লিয়োনেল মেসির সঙ্গে তুলনা তো বটেই, অনেকেই টেনে এনেছেন পেলে, দিয়েগো মারাদোনাদের সঙ্গে তুলনাও।
আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রোনাল্ডো। টিজারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আপনারা জানেন, মানুষ আমার মুহূর্ত বা গোলগুলোকে নিয়ে উচ্ছ্বাস করছে না? আমি ৮৫টা গোল দূরে। কিন্তু আমার সেটা পছন্দ নয়। একেবারেই পছন্দ নয়। সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে হওয়া উচিত। ৯২০ গোল, ৯২৫, বা ৯৩০ গোল যা-ই হোক না কেন, আমিই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। ফুল স্টপ। কে ইতিহাসের সেরা তা নিয়ে কোনও বিতর্ক হওয়া উচিত নয়। আপনাকে গোল করতেই হবে। আর পরিসংখ্যানই সেটা বলে দিচ্ছে।”
যদিও সমর্থকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলের মতো দলগত খেলায় ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান কখনওই বিচার্য হতে পারে না। মেসি ২০২২-এ বিশ্বকাপ জিতেছেন। দু’বার কোপা আমেরিকা জিতেছেন। দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। সেখানে রোনাল্ডো কোনও দিন বিশ্বকাপ জেতার ধারেকাছে যেতে পারেননি। পর্তুগালের হয়ে সাফল্য বলতে এক বার ইউরো কাপ এবং দু’বার নেশন্স লিগ জয়। পেলে তিন বার, দিয়েগো মারাদোনা এক বার বিশ্বকাপ জিতেছেন। সেখানে রোনাল্ডো কী করে নিজেকে সর্বকালের সেরা বলে দাবি করলেন তা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
কয়েক মাস আগে একটি সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো জানিয়েছিলেন, আল নাসেরের হয়ে ঘরোয়া মরসুম শেষের পর অবসর নিতে পারেন। তিনি আবারও বলেছেন, “আমি বেশি দূরে তাকাতে ভালবাসি না। আমি ছেলেদের জীবনের দিব্যি কেটে বলছি, আমি বর্তমানে বাঁচতে ভালবাসি। জানি না কাল কী হবে। হয়তো সকালে ওঠার পর কোনও অনুপ্রেরণাই পাব না। আর খেলতে ইচ্ছাই হবে না। জানি না কী হবে।”
