বয়স, ফিটনেস, পারফরম্যান্স, কিছুই আটকাতে পারছিল না জেমস অ্যান্ডারসনকে। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল হয়ে ছুটে যাচ্ছিলেন তিনি অপ্রতিরোধ্য গতিতে। কিন্তু বাধ সাধছে নিয়তি। কিংবদন্তির ক্যারিয়ারও তাই এখন দাঁড়িয়ে চরম অনিশ্চিত এক মোড়ে। ৪৪ বছর বয়সী পেসারের পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি হয়ে যেতে পারে এবারই।
খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছিল দা টাইমস। পরে অন্য অনেক সংবাদমাধ্যমও ফলাও করে সেটি প্রচার করেছে। অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না ল্যাঙ্কাশায়ার।
সেই ছেলেবেলা থেকে শুরু করে এই ক্লাবেই কেটেছে তার গোটা ক্যারিয়ার। এখন এই বয়সে তিনি নতুন ক্লাব খুঁজবেন নাকি থামিয়ে দেবেন গৌরবময় পথচলা, সেটিই এখন অপেক্ষা।
অথচ ২৪ বছরের প্রথম শ্রেনির ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুমগুলোর একটি কাটিয়েছেন এবারই। দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১১ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৭.৬৮ গড়ে ৫০টি। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছে তিনবার, একবার নিয়েছেন ম্যাচে ১০ উইকেট।
সমস্যা হয়ে গেছে দলের পারফরম্যান্সে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-তে আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছে এবার ল্যাঙ্কাশায়ার। ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় তাই খোলনলচে পাল্টে ফেলা হচ্ছে। ড্যানিয়েল গিডনির কাছ থেকে এই মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন প্রধান নির্বাহী রিচার্ড কেনিয়ন ক্লাবের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের ব্যাপক পর্যালোচনা শুরু করেছেন। মার্ক চিলটনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে পল ফারব্রেসকে ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোচিং কাঠামোতেও আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
সেই পালাবদলের অংশ হিসেবে কোপ পড়তে যাচ্ছে অ্যান্ডারসনের ওপরও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, অ্যান্ডারসনকে এর মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে না। ক্লাবের পক্ষ থেকে যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি এখনও।
আগামী মৌসুমেও অ্যান্ডারসনের চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রবলভাবেই ছিল বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলো। অন্য ক্লাবে তার পাড়ি জমানোর ব্যাপার নিয়েও পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি।
যদি এখানেই থেমে যান তিনি, বড় একটি মাইলফলক স্পর্শ করা হবে না অল্পের জন্য। ৩১৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার উইকেট এখন ১ হাজার ১৯৩টি।
১৮৮ টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে অ্যান্ডারসনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমেছে ২০২৪ সালে। টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি পেসার তিনি। টেস্ট থেকেও তার অবসরের ইচ্ছে ছিল না। তবে টেস্ট দলের সামনে এগিয়ে চলার অংশ হিসেবে ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি, সেই সময়ের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের যৌথ উদ্যোগে পারস্পরিক সমঝোতায় কিছুটা অসন্তুষ্টি নিয়েই টেস্টকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরপরই যোগ দিয়েছিলেন টেস্ট দলের কোচিং স্টাফে।
তবে টেস্ট ছাড়লেও খেলা ছাড়েননি। ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি বাড়িয়ে ২০২৫ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে ন। যদিও চোটের কারণে ওই মৌসুমে স্রেফ ছয়টি ম্যাচে খেলতে পারেন। তবে নতুন সীমানাতেও পা রাখেন ওই মৌসুমে। ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে খেলেন, ১১ বছর পর খেলেন টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে।
পরে ল্যাঙ্কাশায়ার তার সঙ্গে চুক্তি বাড়ায় আরও এক বছর। টালমাটাল দলটির অধিনায়কত্বও পান তিনি। পেশির চোট কিছুটা বাধা দিলেও এই মৌসুমে ১৪ ম্যাচের ১১টিতেই খেলতে পারেন এবং দারুণ পারফর্ম করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও যথেষ্ট হচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত নতুন দলে পাড়ি না জমালে তার গৌরবময় ক্যারিয়ারের সমাপ্তি এখানেই। ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে এক জীবনের সম্পর্কের শেষটাও হয়তো হবে অস্বস্তি আর আক্ষেপ নিয়ে।
