আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দলে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনের পরেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে মহম্মদ সামিকে কেন এখনও জাতীয় দলে ফেরানো হচ্ছে না?
ভারতের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ এবার সামির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে দলে ফেরানোর দাবি জানালেন। এমনকী, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের জন্যও সামিকে বিবেচনা করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
২০২২ সালের পর ভারতীয় দলের হয়ে আর খেলতে দেখা যায়নি ভুবনেশ্বরকে। তবে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ফের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে তাঁর। আরসিবির পরপর দু’বার আইপিএল জয়ের পিছনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এই ডান হাতি পেসারের। আইপিএলের গত তিন-চারটি মরশুমে ৭২টি উইকেট নেওয়ার সুবাদে ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনকে যথাযথ বলেই মনে করছেন প্রাক্তন নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ।
একটি সংবাদ মাধ্যমকে প্রসাদ বলেন, “সময়টা ঠিক কখন, তা আমি জানি না। তবে ভুবনেশ্বরকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভাল। আইপিএলের গত তিন-চারটি মরশুমে যে বোলার ৭২টি উইকেট নিয়েছে, সে অবশ্যই দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “ওয়ান ডে ফরম্যাটে ভুবি কেমন খেলবে, তা আমি জানি না। তবে টি-টোয়েন্টিতে ও নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারবে। ওর মতো দক্ষতা যার রয়েছে, সে এখনও খেলা চালিয়ে যেতে পারে।”
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও মহম্মদ সামির দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রসাদ। ২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সামির পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে তাঁকে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক।
প্রসাদের কথায়, “২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে সামি ভারতের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিল। এখনও ও ভাল খেলছে। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ওকে দেখতে চাই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের সিরিজেও শামিকে খেলতে দেখতে আগ্রহী আমি।”
২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই সামির মতো অভিজ্ঞ পেসারকে নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত বলেই মনে করছেন তিনি। সামির পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের প্রাক্তন বোলিং কোচ ভরত অরুণও। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটে সামির অবদান যথেষ্ট। নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার কোনও প্রয়োজন নেই এই অভিজ্ঞ পেসারের। নির্বাচকদের উচিত তাঁর বর্তমান ফর্ম ও দক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন যখন ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন সামির মতো অভিজ্ঞ পেসারের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। প্রাক্তন ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের একাংশের মতে, আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় সামিকে উপেক্ষা করা উচিত হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচকেরা তাঁকে ফেরানোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেটাই দেখার।
