শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের টানা আট দিনের ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। চিকিৎসা, ব্যবসা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিদিনই ভারতে যাচ্ছেন অনেকে। গত চার দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ২০ হাজার ৬৮৩ জন পাসপোর্টধারী।
গত ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ছুটি চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে যাত্রীর চাপ বাড়লেও বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সেবার মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, যাত্রীছাউনি না থাকা, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং বিশেষ শ্রেণির যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, টার্মিনালে প্রবীণ নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা, ক্যানসারে আক্রান্ত ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা নেই। যাত্রীছাউনি না থাকায় ভোর থেকে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এতে ভারত ভ্রমণের শুরুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাসপোর্টধারীদের ভাষ্য, বর্তমানে ভারত ভ্রমণে একজন যাত্রীকে এক হাজার টাকা ভ্রমণকর, ৬২ টাকা বন্দর ফি এবং ভারতীয় অংশে ৪০০ রুপি ভ্রমণকর দিতে হয়। গত পাঁচ বছরে কর ও ফি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে সে অনুযায়ী যাত্রীসেবার মান বাড়েনি।
পাসপোর্টধারী আনিসুর রহমান জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও ভিআইপি পরিচয়ে একদল যাত্রী আগে যাওয়ার সুযোগ পান। এতে একই নিয়মে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও সাধারণ যাত্রীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, পূজার ছুটিতে চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তাঁরা ভারতে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর চেকপোস্ট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বলেন, ছুটিতে যাত্রীর চাপ বিবেচনায় পর্যাপ্ত যাত্রীছাউনি নির্মাণ এবং বিশেষ শ্রেণির যাত্রীদের জন্য পৃথক লাইন চালু করা প্রয়োজন। এতে যাতায়াত আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন জানান, পূজার ছুটিতে যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, বন্দরে জায়গা অধিগ্রহণ এবং ভোগান্তি কমিয়ে নিরাপদে পারাপারের জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
