Published on
:
2 min read
রাজ্যের একাধিক জায়গায় ভাঙা হচ্ছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বুক স্টল। সেই সময়ে অন্য চিত্র বাঁকুড়া জেলার খাতড়ায়। দলের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হাজির মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা কনভেনর মোহন কর। শুধু হাজির হওয়া নয়,ওই স্টলে নিজেই বেছে বইও কিনেছেন তিনি। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। যদিও এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই বলে দাবি করেছেন মোহন কর।
প্রতি বছর পুজোর সময়ে বইয়ের স্টল করে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি। তবে চলতি বছর দুর্গাপুজোর সময়ে সিপিএম এবং অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির স্টল করা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কলকাতা-সহ রাজ্য জুড়েই ভাঙা হয়েছে অনেকগুলি স্টল।
এই সবের মধ্যে ব্যতিক্রমী এক রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল খাতড়া শহর। দলের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হাজির মোহন কর। শুধু হাজির হওয়াই নয়, স্টল থেকে তিনি কিনেছেন দশটি বই। সোমবার সন্ধ্যায় খাতড়া বাজারে সিপিএমের মার্কসীয় ও প্রগতিশীল সাহিত্য পুস্তক বিপণীতে দেখা যায় এই ছবি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রসের কোনও নেতাকে এভাবে সিপিএমের বইয়ের স্টলে দেখা যায়নি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই উপস্থিতি কি নিছকই বই-প্রেম, না এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ উঠছে সেই প্রশ্নও।
যদিও যাবতীয় রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে মোহন দাবি করেন, তিনি রাজনীতি করতে নয়, এসেছেন বই কিনতে। দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবে সিপিএমের তরফে বইয়ের স্টল দেওয়া বাংলার সংস্কৃতির অঙ্গ। বই তাঁর প্রিয়, তাই কিনতে এসেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা দেবদুলাল প্রামাণিক, তন্ময় দত্তরা জানান, তাঁদের বইয়ের স্টলে যে কোনও দলের মানুষ আসতেই পারেন। রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে আক্রমণের অভিযোগের মধ্যে খাতড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার বই কেনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা।
এই বই কেনার মধ্যে দুই দলের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক বোঝাপড়া নেই বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। বই কেনা হলেও, আগামী দিনেও তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই এবং বিরোধিতা বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছেন দুই পক্ষের নেতারাও।
