Published on
:
2 min read
মাঝগঙ্গায় চলছিল যাত্রীবোঝাই লঞ্চ। আচমকাই গঙ্গায় পড়ে যায় নাবালক। কিছুক্ষণ হাত তুলে বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জলে তলিয়ে যায় ১২ বছরের অদ্রিজ। শুক্রবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের লালবাগ সদরঘাটের ঘটনা। তার খোঁজে গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করেছে ডুবুরি দল।
লালবাগ থেকে ভাগীরথীর পশ্চিমপাড় লাগোয়া ডাহাপাড়া যাওয়ার জন্য একটি যাত্রিবাহী লঞ্চে উঠেছিল অদ্রিজ। তার পরনে ছিল লাল রঙের জামা ও ফুল প্যান্ট। সঙ্গে ছিল একটি কাপড়ের ব্যাগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লঞ্চটি মাঝগঙ্গায় পৌঁছনোর পরে যাত্রীদের কাছে সাহায্য বা ভিক্ষা চাইতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বালকটি। সেই সময়ে ভিড়ের মধ্যে পা পিছলে গঙ্গায় পড়ে যায় সে। পরিস্থিতি বুঝে লঞ্চ থেকে লাইফ জ্যাকেট ছোড়া হলেও তা বালকের কাছে পৌঁছয়নি। নদীর স্রোতে অন্য দিকে ভেসে যায় সেটি।
কিছু ক্ষণ হাত তুলে বাঁচার চেষ্টা করার পরে জলে তলিয়ে যায় অদ্রিজ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অনিরুদ্ধ বাগের নেতৃত্বে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। গঙ্গায় নামানো হয় বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল। লাইফ জ্যাকেট পরে নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালান ডুবুরিরা। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বালকের কোনও হদিস মেলেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, 'আমি নৌকোয় করে ওপার থেকে আসছিলাম। লঞ্চে মাঝি-সহ অনেক যাত্রী ছিলেন। কিন্তু বাচ্চাটি জলে পড়ে যাওয়ার পরে কেউ সময়মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। ঠিক সময়ে তৎপর হলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। এই ঘাটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
একটি পাকা সেতু থাকলে এমন বিপদ অনেকটাই এড়ানো যেত।' অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী সুদীপ্ত ঘোষের অভিযোগ, 'এ পার থেকে দেখছিলাম, ওপারের একটি লঞ্চের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি জলে পড়ে গেল। তার পরে লাইফ জ্যাকেট ছুড়তেও অনেক দেরি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মাঝি লঞ্চ থামিয়ে বা কোনও যাত্রী সাহস করে জলে নামলে ছেলেটিকে বাঁচানো যেত কি না, সেই প্রশ্ন থাকছেই।'
অন্য দিকে, লঞ্চের মাঝির দাবি, লঞ্চ ছাড়ার পরে মাঝগঙ্গায় বালকটি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রচণ্ড ভিড় থাকায় কখন সে জলে পড়ে যায়, তা প্রথমে বোঝা যায়নি। পরে তাকে জলে হাত তুলতে দেখে লাইফ জ্যাকেট ছোড়া হয়। কিন্তু সেটি স্রোতে ভেসে অন্য দিকে চলে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজ বালকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, লঞ্চে পর্যাপ্ত যাত্রীসুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল কি না এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় সদরঘাটে যাত্রীসুরক্ষা ও পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
