নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
মণ্ডা মিঠাই
শুভ বিজয়া
পল্লব মুখোপাধ্যায়
২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
বিজয়া দশমী হল শারদোৎসবের সমাপ্তির দিন। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী
তিথিতে প্রতিমা বিসর্জন এবং গুরুজনদের প্রণাম ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে 'শুভ
বিজয়া'র শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। প্রতিমা বিদায়ের সুরে মনে নেমে আসে গভীর বিষাদ।
কোনও কোনও মতে, এটি অশুভর ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
প্রতিমার বিসর্জন শেষে বাড়ি ফিরে পরিবার-পরিজনদের মধ্যে বাঙালিরা মেতে ওঠে
পারস্পরিক আলিঙ্গনে। ছোটরা গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, সমবয়সীরা
আলিঙ্গন করেন আর গুরুজনেরাও ছোটদের প্রাণভরে আশীর্বাদ করে থাকেন।
সঙ্গে চলে দেদার মিষ্টিমুখ। ঘরে ঘরে তৈরি হয় নারকেল নাড়ু, মুড়কি। বিভিন্ন মিষ্টি
সহযোগে চলে খাওয়া-দাওয়া। আর তারই সঙ্গে অপেক্ষা থাকে পরের বছর শারদোৎসব
আসার। "আসছে বছর আবার হবে"—এই বুকভরা আশা নিয়ে বাঙালি আবার দিন গোনা শুরু
করে আগামী বছরের শারদোৎসবের জন্য।
নিরংকুশ 'শুভ বিজয়া' আর কবেই বা দেখা গিয়েছে | আজও উৎসবের আলো পৌঁছতে পারে
না বহু ঘরে | বন্ধ কারখানা বন্ধ করে রাখে এমনকি বচ্ছরকার দিনগুলিতে উৎসব-
উপভোগেরও দরজা | আলো-ঝলমলে দিনে-রাতে আমরা কি খোঁজ নিই কার ঘরে জ্বলেনি
দীপ, কে আছে আঁধারে, কার বাছার জোটেনি দুধ আছে অনাহারে?
শারদোৎসব এখন বাঙালির জাতীয় উৎসবের চেহারা নিয়েছে | এই উৎসব এখন কার্যত
মিলনের উৎসব | শরৎকালে ফসল কাটার সময়ে আকাশে বাতাসে যখন আনন্দের সুর
ধ্বনিত হয় তখন শারদোৎসবের আনন্দই আলাদা। তবুও তো উৎসবে আলো থাকে না
অনেকের ঘরে। সেই তমসা ও মালিন্য দূর করতে পারলেই শারোদৎসব ও শুভ বিজয়ার
সাফল্য ও সার্থকতা। 'নতুন পাতা'-র পাঠক-পাঠিকাদের শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা |
