ইশরাক হোসেনের বিতর্কের পদত্যাগের ঘোষণা নিয়ে নতুন করে সামনে আসল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুন। এ ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও অস্ত্র প্রদর্শনের কারণে রাজনৈতিক পরিণতির মুখে পড়েছিলেন কয়েক জন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের পদত্যাগের ঘোষণা নিয়ে নতুন করে সামনে আসল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুন। এ ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান অস্ত্র প্রদর্শনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুনের রাজনৈতিক জীবনের অবসানের বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের ওই নেতা পোস্টে লেখেন, বিএনপিকে জানুন ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। থার্টি-ফাস্টের রাতে বাধনের শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের তৎকালীন নেতাদের তৎপরতা ছাত্র রাজনীতির সাহসের অনন্য নজির ছিল। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুনের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে আলোচিত। মুজিববাদী গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে যখন তখন প্রতিরোধ গড়ে তোলার অসম সাহস ছিল তার।
তিনি লেখেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যায়। গডমাদার হাসিনা আর তার ছত্রছায়ায় থাকা গডফাদারদের ন্যাক্কারজনক পরাজয় ঘটে৷ গঠিত হয় বিএনপি-জামায়াত সরকার। পরাজিত ছাত্রলীগ একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে বিতাড়িত হয়। সব হলের ক্যাডাররা জগন্নাথ হলে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
তিনি আরও লেখেন, ছাত্রলীগের ক্যাডারদের দখলদারিত্ব থেকে জগন্নাথকে মুক্ত করতে সচেষ্ট হয় ছাত্রদল। এর নেতৃত্বে ছিলেন মামুন ভাই৷ তবে তিনি একটি ভুল করে ফেলেন। তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেন। ফটো সাংবাদিকরা অস্ত্রের ছবি তুলে ফেলেন। মামুন ভাইয়ের রাজনীতি ওই ঘটনাতেই থেমে যায়। তারপর নানা ঘটনা, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেন। এক সময় মারাও গেলেন।আজকে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে পদগত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করলে বিএনপি ছাড় দেয় না। বিএনপির রেড লাইন আছে।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারন সম্পাদক ছিলেন। মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুনের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ শাসন আমলে ১৯৯৬সাল থেকে ২০০১ দলের সংকটময় মুহুর্তে খুবই ভাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জানা মতে। বিএনপির ২০০১-২০০৬ শাসন আমলে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন মোস্তাফিজুল ইসলাম মামুন।
