ভোলা সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা ও ভুক্তভোগীর অনুসারীদের গণপিটুনিতে মো. আসিব (২৫) নামের অভিযুক্ত এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার ভোরে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আসিব ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেদুয়া গ্রামের ধলু হাওলাদারের ছেলে। অন্যদিকে আহত বিএনপি নেতার নাম হোসেন হাওলাদার ম্যানেজার; যিনি রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
গত শনিবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার একটি নির্জন স্থানে আসিব ও তার সঙ্গীরা লুডু খেলছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের লুডু খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর সবাই যে যার মতো চলে যান।
কিছুক্ষণ পর আসিব পুনরায় আনন্দবাজারে এলে সেখানে উপস্থিত
হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে তার ফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসিব তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত বাড়ি চলে যান। পরে পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা আহত বিএনপি নেতাকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত আনুমানিক নয়টার দিকে আনন্দবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত আসিবকে ঘিরে ফেলেন স্থানীয় জনতা ও আহত নেতার অনুসারীরা। এ সময় তাকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত এগারোটার দিকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে পুলিশি নিরাপত্তায় একটি পিকআপে করে তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।
