দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্ট, গড়িয়াহাট ও চিংড়িহাটা উড়ালপুলের রং করা রাস্তায় মোটরবাইকে দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তদন্ত শুরু করল রাজ্য সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী উড়ালপুল রং নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সিপিকে দেখার জন্য বলা হয়েছে। তবে রাস্তায় যে রং ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ‘অ্যান্টি স্কিড’। মোটর বাইক পড়ে যাওয়ার বিষয় নেই। কিন্তু কেন দুর্ঘটনা হল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’
বুধবার দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির জেরে জল জমায় চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের রঙে ঢাকা রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় পর পর একাধিক মোটরবাইক নিয়ে চালকরা দুর্ঘটনায় পড়েন। অভিযোগ উঠে, পুজোর জন্য সরকারি উদ্যোগে পুরমন্ত্রীর তদারকিতে শহর সৌন্দর্যায়নের নামে এই রঙ করার জন্য বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়েছে। বিশেষ করে মোটর বাইক চালকদের জন্য গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের রঙে ঢাকা রাস্তাটি মরণফাঁদ হয়েছে বলে বিরোধী দল তৃণমূল এবং কংগ্রেসের তরফে পৃথকভাবে অভিযোগ করা হয়। শুধু তাই নয়, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে মোটরবাইক ‘স্কিড’ করার ওই দুর্ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। খবর পৌঁছায় নবান্নে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বিভাগীয় পুর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে। সাংবাদিক বৈঠকের পর একান্ত আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ‘‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি কারণে দুর্ঘটনা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখার জন্য। অনেকে বলছেন, বিভিন্ন রং এর কারনে চালকদের চোখ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, যদি সেটাও হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা হবে। মানুষের প্রয়োজনে যেটা সুবিধা সেটাই হবে।’’ পুরমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর রাতেই ঘটনাস্থলে কেএমডিএ ও কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা পৌঁছে রাস্তায় রঙ যাতে পিচ্ছিল না থাকে তার কাজ শুরু করেন বলে সূত্রের খবর। চতুর্থীর দুপুরে বৃষ্টির পরই উড়ালপুলের রাস্তায় পুজো উপলক্ষে তিনটি রংয়ের প্রলেপ দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ককে উস্কে দেয় একটি ভিডিও৷
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে রং করা চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের উপরে পিছলে পড়ছেন একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী৷ যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘সংবাদ প্রতিদিন’৷ অভিযোগ, বৃষ্টিতে এমনিতেই ভিজে যাওয়া রাস্তায় তৈলাক্ত রংয়ের প্রলেপের কারণেই তা বিশেষত মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে৷পুরমন্ত্রী জানান, ‘‘অনেকে সোশাল মিডিয়ায় বলছে, যে রংটা হয়েছে তাতে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। যদি মানুষের অসুবিধা হয় তাহলে অন্য কিছু ভাবা হবে। কিন্তু যদি পুলিশ বলে অসুবিধা হচ্ছে তাহলে আমরা বিকল্প চিন্তা করব।’’
