- নিচের দিকের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন পদেও নতুন নিয়োগ হয়েছে।
- জনবল বাড়ানোর পরও ব্যাংকটির গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক হয়নি।
- আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
মৃত্তিকা সাহা, ঢাকা
আপডেট :
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ১২
দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১৬ হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার পরও নতুন করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে অন্য ব্যাংক থেকে ১৮ জনকে নিয়োগের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন পদেও একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জনবল আরও বাড়ানোর পরও ব্যাংকটির গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক হয়নি। গ্রাহকদের অভিযোগ, অধিকাংশ আমানতকারী এখনো তাঁদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। মেয়াদি আমানত পরিশোধে জটিলতার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনবৈষম্যও দূর হয়নি।
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকের প্রায় ১৬ হাজার কর্মীকে এক কাঠামোয় আনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্য ব্যাংক থেকে সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে ১৮ জনকে বর্তমান বেতনকাঠামোর তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সর্বশেষ গতকাল রোববার নিরাপত্তা বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় নির্দিষ্ট দক্ষতা বা নতুন প্রজন্মের জনবলের প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে একই সময়ে প্রায় ১৬ হাজার কর্মীর পদায়ন, দায়িত্ব ও পদমর্যাদা পুনর্বিন্যাসের কাজ চলায় নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও সাংগঠনিক
চাহিদা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একীভূতকরণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পাঁচটি ব্যাংকের বিদ্যমান সম্পদ, জনবল ও অবকাঠামোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানো।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এখনই যেন তা বড় আকারে না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আগে ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিতে হবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের এ বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।
এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেনি। গ্রাহকদের দাবি, প্রায় ৯৮ শতাংশ আমানতকারী এখনো তাঁদের অর্থ তুলতে পারছেন না। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনেকেই টাকা পাননি। কোনো মুনাফা ছাড়া এক্সিট সুবিধা নেওয়ার প্রস্তাবেও গ্রাহকদের আপত্তি রয়েছে। মেয়াদি আমানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। আবার পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইউনিয়ন ব্যাংকের গ্রাহক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রেজল্যুশন অনুযায়ী, তিন মাসের মেয়াদি আমানতের সময় বাড়িয়ে ৯ মাস করা হয়েছে। তাঁর ২০ লাখ টাকার মেয়াদি আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেজল্যুশন না মেনে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বেতনবৈষম্যও একীভূত ব্যাংকটির বড় সমস্যা। কর্মীদের অভিযোগ, একই পদ, গ্রেড ও দায়িত্বে কাজ করলেও সাবেক ব্যাংকভেদে বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জুনিয়র অফিসার থেকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই ব্যবধান ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বলে দাবি তাঁদের। এ পরিস্থিতিতে অভিন্ন সার্ভিস রুলস, পদবিন্যাস ও বেতনকাঠামো চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান বলেন, আগের ব্যবস্থাপনার কিছু দুর্বলতার কারণে ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এ বিবেচনায় বাইরে থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১৫ জন হবে। তবে বিদ্যমান জনবলকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংক পুনর্গঠনেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বেতনকাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সমস্যায় আছেন। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সন্তুষ্ট করা যায়, এমন একটি মডেল তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এতে সময় লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন নিয়োগের বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এখন পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে একই ব্যাংকে ভিন্ন বেতনকাঠামো থাকলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না।

