কালবেলা · টেক
অকাল প্রসবের আগাম সংকেত দেবে স্মার্ট রিং
২১/১০/২০২৬

গর্ভবতী নারীদের অকাল প্রসবের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে স্মার্ট রিংয়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। এ রিংয়ের মাধ্যমে হৃদ্স্পন্দন, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করে প্রসবের আগে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা পর্যবেক্ষণ করবেন গবেষকরা। খবর খালিজ টাইমসের।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আবুধাবির স্বাস্থ্য বিভাগ (ডিওএইচ) ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওউরা যৌথভাবে ‘প্রজেক্ট ক্র্যাডল’ নামের এ গবেষণা কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ২৪ মাসের এ গবেষণায় উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের গর্ভধারণের শুরুর দিক থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
গবেষকেরা স্মার্ট রিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত ও জিনগত তথ্য মিলিয়ে দেখবেন। এর মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত অকাল প্রসবের আগে শরীরে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, যা থেকে আগেই ঝুঁকি বোঝা সম্ভব, তা যাচাই করা হবে।
গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে সন্তান জন্ম নিলে তাকে অকাল প্রসব বলা হয়। বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে প্রায় একটির জন্ম হয় এভাবে।
ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসকেরা শিশুর ফুসফুস ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মা ও শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা থাকা হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব হবে।
আবুধাবির কর্নিশ হাসপাতাল ও মেডিক্লিনিক এয়ারপোর্ট রোডে প্রথম পর্যায়ে গবেষণাটি পরিচালিত হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গবেষণার ফল প্রকাশের লক্ষ্য ২০২৮ সাল।
তবে এ প্রযুক্তি এখনই অকাল প্রসবের পূর্বাভাস দিতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গবেষণার মাধ্যমে রিংয়ের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী, তা যাচাই করা হবে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীরা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবাও পাবেন। ভবিষ্যতে আবুধাবির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নির্ভর করবে গবেষণার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।
সূত্র: খালিজ টাইমস
মূল প্রতিবেদনে যান ↗