মহাসপ্তমীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা আসানসোলের জামুড়িয়ার ইকড়া শিল্প তালুকে। সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় শ্যাম সেল কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে একটি নির্মীয়মাণ চিমনি একেবারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেই সময়ে ওই এলাকায় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু হঠাৎ এই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যান বেশ কয়েকজন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। জানা যায়, গভীর রাত পর্যন্ত চারজন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয় ধ্বংসস্তূপ থেকে। তবে ওই ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সকাল থেকে স্থানীয় প্রশাসন ফের উদ্ধারকাজ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়। ঘটনার পর তিনি বলেন, ”পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়, পুলিশ কমিশনার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কমব্যাট ফোর্স ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হয়। এছাড়াও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মৃত প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে এককালীন কুড়ি লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, পরিবারের একজনকে চাকরি এবং শেষকৃত্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া করা হবে।
তবে উৎসবের আবহে এহেন দুর্ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রশ্নের মুখে শ্রমিকদের নিরাপত্তা। তবে এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডা. বিজন মুখোপাধ্যায়। ঘটনার পর তিনি বলেন, ”পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এমনকী আগামিদিনে জামুরিয়ায় এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে বলে আশ্বাস বিধায়কের। এই বিষয়ে আগামিদিনে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে কারখানাগুলিতে নজরদারি চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
