আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি ও এসআইআর-এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা করল 'ককরোচ জনতা পার্টি'। ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে লাগাতার আন্দোলন। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করলেন ককরোচ-দের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর আরও দাবি যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আইনি ও প্রশাসনিক সুরক্ষা দিতে নিজের সমস্ত সরকারি ক্ষমতা এবং রাজ্য পরিকাঠামোকে কাজে লাগাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরব হন পুলিশি নির্যাতন নিয়েও। এর পাল্টা মুখ খুলেছে বিজেপি নেতৃত্বও। দলের মুখপাত্র সৌরভ ভাটিয়া রাহুল গান্ধীকে ‘অরাজকতার প্রতিমূর্তি’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁকে একজন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধী দলনেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সৌরভ ভাটিয়া অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী কোনও তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কথা বলেন। তিনি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংবিধান অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া, মহিলাদের প্রতি অশোভন আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
সৌরভ ভাটিয়া বলেন, “দেশের মানুষও জানেন যে রাহুল গান্ধী অরাজক মানসিকতার। তিনি কোনও তথ্য ছাড়াই কথা বলেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দল ‘সংবিধানকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে’।
প্রতিবাদ নিয়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা বিজেপির
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ওঠা অনিয়মের বিরুদ্ধে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য নেতাদের নেতৃত্বে চলা প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটেই বিজেপির এই মন্তব্য এলো।
নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে রাহুল গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১২ জন নেতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে ভাটিয়া কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মহিলাদের মর্যাদাহানির অভিযোগ তোলার সময় উৎসবের মরসুমের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন যে, মহিলাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনোও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে যে রাজনৈতিক সংঘাত চলছে, বিজেপির এই মন্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের
এদিকে, রাহুল গান্ধী ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১২ জন নেতার দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং তিন নির্বাচন কমিশনারের কাছে জবাব তলব করেছে।
ওই আবেদনে ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন বিরোধী পক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ক্রমাগত উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল।
আদালতকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তা
অন্য একটি ঘটনায়, আদালত চত্বরের কাছাকাছি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও মিছিল পরিচালনার জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ জারি করেছে। ১২ অক্টোবর বিরোধী নেতাদের সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করার বিষয়টি নিয়ে শুনানির সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন যে, “কেউই আদালতকে ভয় দেখাতে পারে না।” এই আইনি প্রক্রিয়াটি বিচার বিভাগীয় চত্বরের আশেপাশে প্রতিবাদ ও মিছিল পরিচালনার নিয়মাবলি তৈরির দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের প্রতিবাদের জেরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই দু'টি বিষয় সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনা আরও তীব্র করেছে।
