Published on
:
2 min read
দীর্ঘ চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাক করেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু তিনি ফিরলেও সেই প্রত্যাবর্তন স্বপ্নের হয়নি। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে উইকেট পাননি তিনি, শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত রানও দেন ভারতের অন্যতম সফল সুইং মাস্টার। IPL-এ ব্যাক-টু-ব্যাক দুই মরশুমে চোখধাঁধানো বোলিং করলেও জাতীয় দলে প্রথম ম্যাচে তিনি তার ছাপ রাখতে পারলেন না। এ বার দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করলেন দীনেশ কার্তিক, যা বেশ চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
ভুবনেশ্বরের নো বলে চমকে গিয়েছেন কার্তিক
সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ভুবনেশ্বরের বলের নিয়ন্ত্রণ। কেরিয়ারজুড়ে নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ভুবি তাঁর স্পেলে করে বসলেন দুটি নো-বল। এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে ধারাভাষ্যকর ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের। ম্যাচ শেষে ‘ক্রিকবাজ়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি তুললেন RCB-র প্রাক্তন সতীর্থ তথা সেই দলে বর্তমানের ব্যাটিং কোচ দীনেশ কার্তিক।
কার্তিক বলেন, ‘আসলে নো-বলগুলোই ওর পুরো স্পেলটাকে এলোমেলো করে দিল। ভুবি এমন একজন বোলার, যে সাধারণত নো-বল করে না। আমি ঠিক নিশ্চিত নই কেন এমনটা হলো, তবে দীর্ঘদিন পর প্রত্যাবর্তনের কারণে সামান্য নার্ভাসনেস কাজ করে থাকতে পারে। এক ম্যাচে ওর হাত থেকে দুটো নো-বল হওয়া একপ্রকার অকল্পনীয় ব্যাপার। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, ও মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে যতটা প্রস্তুত হতে চেয়েছিল, ততটা তৈরি এখনও হতে পারেনি।’
‘নো বলেই ছন্দ কাটে’
তবে অভিজ্ঞ পেসারের বোলিংকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলতে নারাজ কার্তিক। তিনি যোগ করেন, ‘যদি খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে ওর প্রথম এবং চতুর্থ ওভার কিন্তু যথেষ্ট ভালো হয়েছিল। কিন্তু মাঝের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে নো-বল হওয়ার কারণে সেগুলো অতিরিক্ত বড় ওভার হয়ে যায় এবং রান বের হতে থাকে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ওর বোলিং ফিগারে।’
সমর্থকদের একাংশের তোপের মুখে পড়লেও ভুবনেশ্বরকে নিয়ে আশাবাদী কার্তিক। তিনি বলেন, ‘অনেক সমর্থক হয়তো কড়া সমালোচনা শুরু করবেন, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার বছর পর এটা ছিল ওর প্রথম ম্যাচ। তাই ওকে কিছুটা ছাড় দেওয়া উচিত, এতটা কঠোর হওয়া ঠিক নয়। তবে হ্যাঁ, ভুবিকেও সচেতন হতে হবে যেন নো-বল করাটা ওর অভ্যাসে পরিণত না হয়। ও নিজেও ভালো করে জানে যে ও এর চেয়ে বহুগুণ ভালো বল করার ক্ষমতা রাখে। তবে ও কি আজ নিজের সেরা ফর্মে ছিল? একদমই না।’
বোলিং বিভাগের এই ব্যর্থতার দিনে ভারতকে অবশ্য লজ্জায় পড়তে দেননি দলের ব্যাটাররা। নিউ জ়িল্যান্ডের দেওয়া ২২৫ রানের স্কোর তাড়া করতে নেমে ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের ৩৩ বলে মারকুটে ৬৭ এবং শেষলগ্নে নমন ধীরের মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রানের উপর ভর করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
