জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মানুষকে ঋণের পরিবর্তে সরাসরি অনুদান হিসেবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী ৩৬টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাশফিকুল হাসান টনি বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে মাত্র ০.৬ শতাংশের মতো অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট ও নদীভাঙনে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, নদীভাঙনে একজন মানুষের ঘরবাড়ি ১৮ বার পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণের কারণে কৃষিজমি কমছে। কুয়াকাটা ও আশপাশের নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের অনেকে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলম বলেন, গত ২০০ বছরে ধনী ও অধিক গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো নিজেদের ভোগ-বিলাস ও মুনাফার স্বার্থে ব্যাপকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করেছে। এর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের মানুষ খরা, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে নগণ্য। বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধনী দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। করপোরেট মুনাফার স্বার্থে মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না।
আরএএন/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
