ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে জাভেদ আখতার বলেছিলেন, “আল্লাহর চেয়ে মোদি ভালো…।” নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মন্তব্য করে বরাবর মৌলবী-উলেমাদের রোষানলে পড়েছেন প্রবীণ গীতিকার! এবার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে ‘বিস্ফোরক’ শাবানা আজমি। সাফ জানালেন, তিনি ঈদের আনন্দ, উর্দু ভাষার মাধুর্য এবং ‘ইসলামিক’ খাবার-দাবার উপভোগ করলেও কোনওদিনই নমাজ পড়েন না। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদী প্রবীণ অভিনেত্রীর মত, “রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।”
“আমার ঈদ ভালো লাগে, উর্দু ভাষা ভালো লাগে, খাবারও ভালো লাগে। কিন্তু আমরা নমাজ পড়ি না এবং ধর্মের সঙ্গে আমাদের সেই অর্থে কোনও সম্পর্ক নেই।…”
সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে নিজের বেড়ে ওঠা, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মুখ খুলেছিলেন শাবানা। সেখানেই তিনি জানান, “আমার বাবা ছিলেন নাস্তিক। আর মা কিছুটা ধর্মাচরণ করতেন বটে, তবে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে নয়। এখন আমি যখন মাঝেমধ্যে ‘মাশাল্লাহ’ কিংবা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলি, তখন জাভেদ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি বারবার এগুলো কেন বলো? কেউ যদি সবসময়ে তোমাকে ‘প্রভুজি কি মরজি’ (ঈশ্বরের ইচ্ছে) বলে, তাহলে তোমার কেমন লাগবে?’ কিন্তু আমার মনে হয়, এই শব্দগুলো তো আমার মাতৃভাষারই অংশ।” উল্লেখ্য, শাবানা আজমি বিশিষ্ট উর্দু কবি, গীতিকার তথা চিত্রনাট্যকার কাইফি আজমি এবং অভিনেত্রী শওকত আজমির কন্যা। ইসলাম ধর্ম এবং নিজের সাংস্কৃতিক শিকড় সম্পর্কে শাবানার মত, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম। আমার ঈদ ভালো লাগে, উর্দু ভাষা ভালো লাগে, খাবারও ভালো লাগে। কিন্তু আমরা নমাজ পড়ি না এবং ধর্মের সঙ্গে আমাদের সেই অর্থে কোনও সম্পর্ক নেই।”
“আমাদের বুঝতে হবে, এটা হিন্দু-মুসলিমের লড়াই নয়। এই লড়াই উদারপন্থী এবং অসহিষ্ণু মানুষের মধ্যে।”
এরপরই স্বামী তথা বর্ষীয়ান গীতিকার-লেখক জাভেদ আখতারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অভিনেত্রী বলেন, “জাভেদ একজন ‘কট্টর নাস্তিক’। ধর্মীয় বিশ্বাস আসলে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। রাষ্ট্রের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।” সেক্যুলার ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিয়ে একাধিকবার রোষানলে পড়তে হয়েছে শাবানা-জাভেদকে। সেপ্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানালেন, “দুই সম্প্রদায়ের অসহিষ্ণু মনোভাবাপন্ন চরমপন্থীরা আমার এবং জাভেদ আখতারের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে চান না। একদিকে আমাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়, অন্যদিকে নানা ধরনের অভিযোগও ওঠে। আর এই অভিজ্ঞতাই আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।” শাবানা বললেন, “আমাদের বুঝতে হবে, এটা হিন্দু-মুসলিমের লড়াই নয়। এই লড়াই উদারপন্থী এবং অসহিষ্ণু মানুষের মধ্যে।” সেই প্রেক্ষিতেই দেশের সব ‘উদারপন্থী হিন্দু-মুসলিমদের’ অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
