পরশুরামে সাপে কাটা বাবলুর অবস্থা গুরুতর, উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজে রেপার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
ফেনীর পরশুরামে বিষধর সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন বাবলু নামের এক মিষ্টির দোকানের কারিগর।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মোহাম্মদ জাফর আহম্মদের ছেলে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবলুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করেন। তবে ভর্তির পর সেখানে কোনো চিকিৎসক কিংবা জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় দায়িত্বে থাকা দুই নার্স রোগীর প্রতি যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি মুঠোফোনে চিকিৎসককে জানানো হয়। পরে মুঠোফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাবলুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
আগেও সাপে কাটা শিশুর চিকিৎসায় প্রশংসিত হয়েছিল ফেনী
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর পরশুরামে সাফায়েত নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুকে সাপে ছোবল দেয়। ওই শিশুর চিকিৎসায় ফেনী সদর হাসপাতাল ও পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের আন্তরিকতা প্রশংসিত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর দুদিন আগে অ্যান্টিভেনম না পেয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফোন করে ফেনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন।
তবে বাবলুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে আগের মতো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ, নিয়মিত শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
