রাজশাহীর বাঘমারা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা। মাথায় গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসায় প্রয়োজন হলে ঢাকায় নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক বান্ধবীর বাসায় পূজার দাওয়াত খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর চেসি ত্রিপুরাকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
চেসির সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিসার্চ চাকমা বলেন, “আমি আর চেসি তার এক বান্ধবীর বাসায় পূজার দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে আমাদের সিএনজিতে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। সিএনজিতে আমরা মোট সাতজন ছিলাম। এতে শুধু চেসি আহত হন।”
তিনি আরো বলেন, “দুর্ঘটনার পর তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কোনোভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার মাথার ডান দিকে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এ কারণে দ্রুত তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।”
শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “খুব মর্মান্তিক একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা মেডিকেলে এসেছি। এখানে মেডিকেলের প্রিন্সিপাল, আইসিইউ প্রধান সবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এখন চিকিৎসা চলছে।”
তিনি আরো বলেন, “কাল সকালে একটা বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। যদি তারা ঢাকায় নিতে বলেন, আমরা সেটার জন্যও প্রস্তুত আছি। আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও রেডি রেখেছি। এছাড়া, তার চিকিৎসার জন্য যা সহযোগিতা প্রয়োজন, সবকিছুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রস্তুত।”
