
আজমিরীগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
আজমিরীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে সিজিল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়েছেন তিনি।
তবে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আটক করা হলেও পৌর এলাকায় পর্দার আড়ালে থেকে বড় বড় ডিলাররা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কে অভিযান চালিয়ে সিজিল মিয়াকে আটক করা হয়। হবিগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মীরারানী দেবীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে তাঁকে আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটক সিজিল মিয়া আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার একাধিক স্থানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে। এর মধ্যে কাকাইলছেও রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়ক, শরীফনগর শাহী ঈদগাহসংলগ্ন এলাকা, মুন সিনেমা হল সড়ক, লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক এবং পাহাড়পুর সড়কসংলগ্ন শরীফনগর নতুনবাড়ি ও মুন্সিহাঠি নতুনবাড়ির মধ্যবর্তী এলাকাকে ইয়াবা বেচাকেনার হটস্পট হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের বিস্তার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, মাদক কারবারের মাধ্যমে বড় বড় ডিলাররা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খুচরা পর্যায়ের কারবারিরা আটক হলেও পর্দার আড়ালে থাকা বড় সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদকের বিস্তার রোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাঁদের দাবি, যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু খুচরা কারবারিদের আটক করলেই হবে না, মাদকের মূল হোতাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের উৎস, সরবরাহের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সমন্বিত অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
এর আগে আজমিরীগঞ্জে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা, চোলাই মদ, বিদেশি মদ এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং নেপথ্যে থাকা মূল কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৩৪ পিছ ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
