রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিটে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে সংগঠন দুটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাশাপাশি বুধবারের মধ্যে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের পর্যটনকেন্দ্রটি ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায় তারা।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথভাবে অবরোধের ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবিতে এর আগেও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। ওই দিন বিকেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে, অবরোধ স্থগিত করা হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর পুনরায় অবরোধ পালন করে তারা। পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।
আগের অবরোধের কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়েন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় পর্যটকবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর গাড়িবহর চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে জারি করা আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। প্রায় পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয় সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। তবে অবরোধের নতুন ঘোষণার পর একই দিন আবারও সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায় জেলা প্রশাসন।
নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি ও সড়ক অবরোধের ঘোষণায় সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম এবং সড়ক যোগাযোগ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে বুধবার সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। এখন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। ঘন ঘন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের কারণে পর্যটন খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সেনাবাহিনীর এসকর্টে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। সাধারণত দুটি এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর একটি এসকর্টের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মোস্তফা কামাল রাজু/এমএমবি
