আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের প্রথম সেশনে উইকেটের জন্য হন্যে হয়ে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, সাবলীল ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়েছেন আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও ইকরাম আলীখিল। দুজনের জুটিতে স্কোর বোর্ডে যোগ হয় ৬৬ রান।
তবে, সেশনের শেষ দিকে সেট ব্যাটসম্যান ইকরামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন এবাদত হোসেন। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৩ রানে ফেরেন ইকরাম। সেই ক্যাচ ধরেই টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার।
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসালের কীর্তি গড়েছেন লিটন। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পর গ্লাভস হাতেও রেকর্ডের পাতায় নাম লেখালেন তিনি।
প্রথম সেশন শেষে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন আরো ২৭৬ রান, হাতে ৬১ ওভার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের বাকি ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা।
৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে মেহেদী হাসান মিরাজের ওভারে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন ৩৩ বলে ২০ রান করা হাশমতউল্লাহ শহিদি। এরপর সেদিকুল্লাহ আতালের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইকরাম আলীখিল।
একপ্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করেন আতাল। আগের দিন ফিফটি পূর্ণ করা এই ওপেনার ইকরামকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় উইকেট বঞ্চিত রাখেন। দুজনের জুটিতে বাড়তে থাকে আফগানিস্তানের সংগ্রহ, আর উইকেটের অপেক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত লাঞ্চের ঠিক আগে এবাদতের আঘাতে ভাঙে এই জুটি। ইকরামকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দেন বাংলাদেশের এই পেসার। ইকরামের বিদায়ে স্বস্তি নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
এর আগে চতুর্থ দিন ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৫ বলে ২ রান করা আবদুল মালিককে ফেরান এবাদত হোসেন। এরপর হাসান মাহমুদের বলে ১৯ বলে ১৯ রান করা শহিদুল্লাহ সাজঘরে ফিরলে ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এরপর রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতাল মিলে প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের ৮২ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন এবাদত। লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১২৪ বলে ৫১ রান করে ফেরেন রহমত শাহ।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২, মুশফিকুর রহিমের ৮১ এবং লিটন দাসের ১০২ রানের ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিডসহ আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৪৬ রান। জবাবে রহমত শাহর অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
