

নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এসও রোড মেঘনা ডিপো এলাকার উদয় স্মৃতি ঈদগাহ পাশে একটি অবৈধ জ্বালানি তেলের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে তেল ব্যবসায়ী আল-আমিন নামে মালিকানাধীন ওই গোডাউনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্হানীয় বাসিন্দারা জানান গোডাউনে অকটেন, ডিজেল, পোড়া মবিলসহ বিভিন্ন রকম জ্বালানি তেল মজুদ রেখে অন্যত্র বিক্রি করত বলে। আগুনের তীব্রতায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিকালে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর ৩টি ইউনিট প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদমজী ইপিজেডের ফায়ার সার্ভিস সিনিয়র স্টেশন অফিসার মীরন মিয়া বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিড়ি, সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় তেলের গোডাউনের মালিক আল-আমিন পলাতক রয়েছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘বিরাজমান সা'ম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য মেলবন্ধন’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভক্ত, পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পূজামণ্ডপ সমূহে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি ও ফুল দিয়ে ভক্ত ও পূজারীরা এমরান সালেহ প্রিন্সকে বরণ করে নেয়। এসময় তিনি সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উপস্থিত ভক্ত ও পূজারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নিজের পক্ষ থেকে সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে স্মরণকালের সর্বোচ্চসংখ্যক মন্ডপে এ বছর মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ফল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু রাজধানী তে নয়, জেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যাওয়াও একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আজ প্রাণ খুলে আনন্দ করছেন, উৎসব উদযাপন করছেন, স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম করছেন। বিএনপি সরকার নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে সেই আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করেছে। তিনি বলেন, এসব ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, "বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই সম্প্রীতি, ঐক্য ও মেলবন্ধন অটুট ও শক্তিশালী করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমাদের সকলের উচিত, প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে দেশ পুনর্গঠনে তাঁকে সহযোগিতা করা। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও নির্দেশনায় এবার মহা সমারোহে পূজা উদযাপন হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।" জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় সহযোগিতায় তাদেরকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় নাই। এই নির্লিপ্ততা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। জামায়াত তাদের কর্মকাণ্ডে বার বার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে , এবার এনসিপিও তাদের জোটের শীর্ষ দলের নীতি অবলম্বন করেছে কী না তা তাদের পরিস্কার করা উচিত। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার, উৎসব ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। শুধু মুখে সম্প্রীতির কথা বললে হবে না, বাস্তব আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মিজানুর রহমান, উত্তম কুমার বাবুল, আসাদুজ্জামান আসিফ, নাঈমুর আরেফীন পাপন, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মোতালেব , এম আর আল আমিন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে গাড়ির চাবি হস্তান্তর
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের উদ্যোগে মঙ্গলবার অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ এর সৌজন্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবার নিকট একটি নতুন গাড়ীর চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডিআইজি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। নতুন এই যানবাহন সংযোজনের ফলে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, পূর্বধলা থানা, নেত্রকোণার জরুরি রেসপন্স, নাইট টহল এবং দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এসময় তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মতিউর রহমান পরিচালক, অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি, নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫-২৬ ইং অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটে মেরামত ও সংরক্ষণের অধীন গ্রামীণ সড়ক এর আওতায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) এর স্কীম বাস্তববায়নের জন্য উপজেলায় নিয়োগকৃত (LCS) শ্রমিকদের মধ্যে ৩০শে জুন-২০২৬ তারিখে ফেইজ আউটকৃত শ্রমিকদের সঞ্চয়ী অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরো বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সফলতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বক্তব্য শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন শ্রমিকের হাতে প্রতি জনকে ১ লাখ ৯ হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. রফিক ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ এম ইজাজুল হক, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ ও কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এর আগে সকাল থেকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় উপজেলার ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় ছয়সূতী ইউনিয়নে জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের আয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় কুলিয়ারচর কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় যুবদল নেতা মাসুদ রানা
চট্রগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৬ নং পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাঙ্গুনিয়ার ৬ নং পোমরা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা । আগামী নির্বাচনে দলীয় সমর্থন ও মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি। মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেননি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মাসুদ বলেন, “আমি দলের দুঃসময়ে দলের সঙ্গে ছিলাম। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত নিপিরিত ছিলাম, অনেক মামলা হামলার শিকার হয়েছি। ফ্যাসিসদের অত্যাচারে ভালো করে ঘরে ঘুমাতে পারিনি। আমার দলের কর্মীদের নির্যাতনের কথা বলতে গেলে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনা। আমি নির্জনে বসবাস করছি আমার তৃনমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে। আমার উপর যে নির্যাতন করছে ফ্যাসিস সরকার তা বলা বাহুল্য। ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়তে চাইলাম। পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আমি নির্বাচনে যাইনি। আমি চাই, দল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁর ত্যাগ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও জোটেনি চাকরি, অবশেষে সফল উদ্যােক্তা জেমি
সরকারী চাকুরীর স্বপ্ন নিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেছিলেন ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি (৩১)। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সোনার হরিণ নামের চাকুরী ধরতে বিভিন্ন স্থানে ছুটাছঁটি করতে থাকেন তিনি।একসময় চাকুরীর পিছনে ছুটতে গিয়ে হাঁপিয়ে পড়েন ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি। তবুও তার ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী চাকুরী।পরিশেষে চাকুরী পাওয়ার স্বপ্ন গুড়ে বালি হলে বেকারত্বের হতাশার অথৈ জলে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তিনি। জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ সংগ্রামী এই নারী গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের বাসিন্দা।তার স্বামী হাসানুল হুদা রাশেদ। জেমি এসএসসি পাস করেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।স্বামীর আর্থিক সংকটের মুহুর্তে সাংসারিক স্বচ্ছলতার জন্য সরকারী চাকুরীর প্রত্যাশায় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেছিলেন নিজেকে। লেখাপড়ায় উচ্চ শিক্ষায় সফলতা অর্জন করলেও ভাগ্যে আর জোটেনি চাকুরী। তবে চাকুরী না হলেও মনোবল হারাননি তিনি। অবশেষে ভাগ্যবদলের জন্য নিজেকে আত্ননির্ভরশীল করতে ধৈর্য্য, শ্রম, সহনশীলতা ও চেষ্টায় হয়ে উঠেন একজন দক্ষ উদ্যােক্তা। সংকটময় সংসার জীবনে সরকারি চাকুরিকে পেছনে ফেলে নিজের প্রচেষ্টায় ‘পুরানলক্ষীপুরে গড়ে তুলছেন এমব্রয়ডারি পল্লী’। ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি নিজে উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র অনেকটা বদলে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার হাত ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় শতাধিক নারী কর্মি ।তবে জেমির এই সফলতার গল্পটা সহজ ছিল না। জেমি স্নাতককোত্তর সম্পন্ন করে অনেক চাকুরির পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। কিন্তু কাঙ্খিত চাকুরি না হওয়ায় নিজেই একটা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মা-বাবা ও শাশুড়ি, ননদ,জা'সহ আত্বীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তিনি একাজে সফলতার মুখ দেখতে থাকেন।এরইমধ্যে তিন বছর আগে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)র সাদুল্লাপুর উপজেলা কর্মকর্তা আবু সালেহ মো.সালাউদ্দিনের সাথে তার পরিচয় হয়।সেই সুবাদে ওই কর্মকর্তার পৃষ্টপোষকতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র দুরীকরণ প্রকল্পের এমব্রয়ডারি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেন জেমি। সেই প্রশিক্ষণে ব্লক বাটির প্রশিক্ষণ নিয়ে তার জীবনের পথচলা শুরু হয়। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরে বিআরডিবি থেকে ২০ হাজার টাকার ঋণ নেন তিনি। সামান্য সেই পুঁজি দিয়ে ছোট্র পরিসরে ১০ জন নারী কর্মি দিয়ে শুরু করেন বিভিন্ন ডিজাইনের নকশিকাঁথা,জামা,শাড়ি, ও ওড়না তৈরির কাজ।পরে তার তৈরিকৃত পণ্যের গুণগত মান ভাল হওয়ায় স্থানীয় ভাবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ভাবে তিনি অনেকটা লাভবান হন। এভাবে ক্রমান্বয়ে তার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে পুরানলক্ষীপুরে এমব্রয়ডারি পল্লি নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।বর্তমানে শতাধিক নারী কর্মী একাজে নিয়োজিত থেকে দৈনন্দিন উপার্জন করছেন। জেমির সেই প্রতিষ্ঠানে সুঁই-সুতা আর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে,গ্রামীন ঐতিহ্যের নকশিকাঁথা,রুচিসম্মত আকর্ষণীয় থ্রি-পিস,শাড়ি,বেডশীট, বালিশের কভার,টেবিল ম্যাট, পাপোশসহ নানা বিভিন্ন ধরনের কারুশিল্প পণ্য। এরপর উদ্যােক্তা জেমি আবারো এসএমই থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে নতুন ব্রান্ডডিং করার পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে তোলেন "রায়তা পল্লী ক্রাফট" নামে আরো একটি প্রতিষ্ঠান। নিয়োজিত কর্মীরা যত্নের সাথে সুঁই-সুতার কারুকাজ করে কাপড়ের ওপরে নানান রঙ্গের দৃশ্যায়ন ফুল, পাতা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশা ফুটিয়ে তুলছেন। জেমি জানান, এ কাজে নিয়োজিত নারী কর্মীরা সাংসারিক কাজকর্মের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের সুযোগ পেয়েছেন। উদ্যােক্তা জেমি আরো বলেন, কর্মীদের পারিশ্রমিক যথাসময়ে পরিশোধ করেও প্রতিমাসে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। সিরিনা বেগম নামের একজন নারী কর্মী বলেন, সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্ম করে দিনের বেশির ভাগ সময় কোন কাজ না থাকায় অলস সময় পাড় করতাম। এখন জেমি আপার এখানে কাজ শেখার পর সুঁই-সুতার কাজ করে প্রতিমাসে নিজের হাতে কিছু টাকা উপার্জন করতে পারছি। সন্তানদের ছোট-খাটো আবদার মেটাতে বা সংসারের টুকিটাকি চাহিদা মিটানো যায়। আরেক কর্মী সাথী খাতুন বলেন, গ্রামে মেয়েদের জন্য কাজ পাওয়ার সুযোগ খুব কম। জেমি আপা আমাদের ডেকে এনে কাজ শিখিয়েছেন, আয়ের পথ দেখিয়েছেন। এখন আমরা শুধু নিজেরা স্বাবলম্বী নই, সংসারের অর্থনৈতিক গতি ফিরাতেও অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি। জেমি আপার প্রচেষ্টায় আমরা অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছি। উদ্যোক্তা জেমি জানান,স্বীয় আত্মবিশ্বাস নিয়ে গড়ে তোলা এই উদ্যোগ আজ কেবল আমাকেই স্বাবলম্বী করেনি।আমার পাশাপাশি অনেক অসহায় নারীকে কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে পেরে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে।এই কাজের সুবাদে কর্মরত এসব নারীরা উপার্জনের সুযোগ পেয়ে তারাও বেশ মহাখুশি। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন বলেন—অদম্য ইচ্ছাশক্তিই জেমি প্রমাণ করেছেন মানুষের কাছে কোন কাজই অসম্ভব নয়।শুধু মেধা,শ্রম ও ধৈর্য্যের প্রয়োজন। এতে যেকোন কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে তিনি আজ গ্রামীণ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। যা গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদারে বড় ভূমিকা রাখছে। আমরা তার এই ‘পুরানলক্ষীপুর এমব্রয়ডারি পল্লী’-কে আরও এগিয়ে নিতে সহজ শর্তে বড় অংকের অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, জেমিকে আরও বড় পরিসরে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। তার এই উদ্যোগ অন্যান্যে স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্রান্ডডিং হয়ে উঠবে এটাই প্রত্যাশা।


