কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া সেলাই মেশিনটি ফেরত দিয়েছেন বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের উপস্থিতিতে ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে তার বাড়ি থেকে সেলাই মেশিনটি ফেরত নেন বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী।
এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঝুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। আমিও বিএনপি পরিবারের সদস্য। সেলাই মেশিনটি যে জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা আমি প্রথমে জানতাম না। আমি জানতাম, আমার স্বামীর বন্ধু ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগতভাবে এটি উপহার দিয়েছেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এতে আমরা বিব্রত বোধ করি।
সেলাই মেশিন ফেরত নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিনটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর উপস্থিততে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারটি এতে বিব্রত হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে মেশিনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাই আমি সেটি ফিরিয়ে নিয়েছি।
জামষাইট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি এবং স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে বিধবা স্ত্রী হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, সমাজসেবক চেরাগ আলী ও মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, সাইফুল ইসলামের পরিবারের সহায়তায় সংসদ সদস্য ও বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা, গভীর নলকূপ ও টয়লেট, ঘর নির্মাণ ও ঝুমা আক্তারকে একটি চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে ।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান জানান, অসহায় পরিবারটি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াতের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিনটি প্রদান করেছিলাম । সেলাই মেশিনটি পেয়ে ঝুমা আক্তার সকলের সামনে জামায়াতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। এখন দলীয় নেতাদের চাপে অস্বীকার করতে বাধ্য হন। জামায়াত সবসময় জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। অসহায় ঝুমা আক্তারকে আমাদের সহযোগিতার পর বিএনপির নেতৃবৃন্দের নজরে আসায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
