সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে চালানো এ হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের তথ্য অনুযায়ী, রোববারের হামলায় বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন শনিবারও দেশটিতে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে। দুই দিনের এসব হামলায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৮ জনে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক জোট আরও জানিয়েছে, রিয়াদের আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি চালকবিহীন আকাশযান এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আভা শহরে কিছু সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব ঘটে এবং কিছু উড্ডয়ন বাতিল করা হয়। বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যাত্রীদের চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার ও রোববারের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দরের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর দুটি স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে, সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও নিজেদের নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত রিয়াদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। তবে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রিয়াদে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা, আকাশপথে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে হামলা বন্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর।
-20261012031822.jpg&w=1440&q=75)