ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির সিসিলি দ্বীপের উত্তর উপকূলে একের পর এক ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কয়েক দফা ভূকম্পনের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পালার্মো ও মেসিনা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনও খালি করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিসিলি দ্বীপের আশপাশে মোট ১২টি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৩-এর বেশি। একটি ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে সিসিলির উত্তরে সমুদ্রের নিচে ১০ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। অন্যদিকে প্রাথমিক প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ৫ মাত্রার ভূকম্পনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ভূকম্পনের পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সমুদ্রের পানির অস্বাভাবিক পরিবর্তনের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সৈকত ও সমুদ্রসংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতার মাত্রা কমলা পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পালার্মো ও মেসিনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের বাইরে নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কর্মীদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়।
সিসিলি দ্বীপের পশ্চিম উপকূলের ত্রাপানি শহরে একটি আদালত ভবন খালি করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিলি ও মূল ইতালির মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জের লিপারি দ্বীপে শিক্ষার্থী এবং পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। সতর্কতামূলক এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য বিপদের মুখে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সিসিলির উত্তর উপকূলে, পালার্মো শহর থেকে ৬০ মাইলেরও কম দূরে বলে জানানো হয়েছে। দ্বীপটির প্রধান শহর পালার্মোর জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার। পালার্মো ছাড়াও পাত্তি, লিকাটা, কাপো দ্যোরলান্দো এবং কাম্পোফেলিচে দি রোক্কেলার বাসিন্দারা ভূকম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন।
উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিকাটা শহরেও কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা তৈরি হলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমুদ্রের পানি হঠাৎ সরে যাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া কিংবা কর্তৃপক্ষের সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত উপকূল ছেড়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ভূমিকম্প হলেই সুনামি সৃষ্টি হবে, এমন নয়। সুনামির ঝুঁকি নির্ভর করে ভূমিকম্পের অবস্থান, গভীরতা, সমুদ্রতলের স্থানচ্যুতি এবং অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির ওপর। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সিসিলি ও আশপাশের এলাকায় ভূকম্পনের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভূমিকম্পের প্রকৃত মাত্রা, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
-20261023171344.jpg&w=1440&q=75)