সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন শঙ্কামুক্ত হলেও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৭ জন।
রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে চালানো ওই হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি। আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী এবং ১৬ জন ওমরাহ ভিসায় আগত যাত্রী।
আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। চারজন শঙ্কামুক্ত হলেও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া নওগাঁর বাসিন্দা সাফফাত রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্য জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি রিয়াদের বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহ পালনে যাওয়া ১৭ জনকে মেরিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু হোটেল এবং ৪০ জনকে রিয়াদের প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস সহযোগিতা করেছে।
এ ছাড়া তিন বাংলাদেশি তাঁদের পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলায় তাঁদের জরুরি ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছে।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রিয়াদে কর্মী পাঠানো, রিয়াদ থেকে সাধারণ কর্মী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দেশে ফেরানো এবং মরদেহ পাঠানোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
