পলাশ মিয়াঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নদী-নালা ও জলাশয়বেষ্টিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কচুরিপানার অনিয়ন্ত্রিত প্রাদুর্ভাব এবং অস্বাভাবিক শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন কচুরিপানার নিবিড় আস্তরণে ঢাকা পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে মৌসুমি ফসল উৎপাদনে কৃষক সমাজ চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি-বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ফরদাবাদ, রূপসদী, দড়িকান্দি, দরিয়া দৌলত, আইয়ুবপুর এবং মানিকপুর ইউনিয়নের বিলে-ঝিলে এবং কৃষিজমিতে কচুরিপানার বিস্তার আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আবাদি জমি থেকে এই প্রকাণ্ড জলজ আগাছা অপসারণ করা সাধারণ চাষীদের পক্ষে এককভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কচুরিপানার জলজ প্রতিবন্ধকতার সাথে যুক্ত হয়েছে কৃষি-শ্রমিকের অপ্রতুলতা ও আকাশচুম্বী মজুরি। জমিকে চাষোপযোগী করতে কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা মূলধন সংকটে পড়ে জমি অনাবাদি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কৃষকদের মতে, প্রতি মৌসুমে যেখানে সামান্য লাভে ফসল ঘরে তোলার আশা থাকে, সেখানে শুরুতেই কচুরিপানা নিষ্কাশনের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চাষীরা অনতিবিলম্বে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ, যান্ত্রিক সহায়তায় কচুরিপানা অপসারণ এবং সার্বিক কৃষি প্রণোদনা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
