আজকাল ওয়েবডেস্ক: দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বিতর্কের মুখে পড়লেন কেরলমের নতুন রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর। শুক্রবার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই লোকভবনের রান্নাঘরে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার তৈরির নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক কংগ্রেস এবং বিরোধী সিপিএমের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সংঘ পরিবারের এজেন্ডা কার্যকর করারও অভিযোগ উঠেছে।
কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল দাবি করেছেন, নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন রাজ্যপাল। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকভবনের রান্নাঘরে আমিষ খাবার তৈরি ও পরিবেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মাথুর।
তবে রাজ্যপালের দপ্তর সূত্রে দাবি, মাথুর নিজে নিরামিষাশী। ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকভবনের অন্যান্য কর্মীদের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।
এই নির্দেশের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, রাজ্যপাল নিজের এক্তিয়ারের বাইরে চলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কে কী খাবেন, তা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রত্যেকের রয়েছে। কেরলের মানুষের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ কিংবা তাঁদের কী খাওয়া উচিত, তা নির্ধারণের চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
যদিও মাথুরের নিরামিষ খাবার খাওয়ার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন কংগ্রেস নেতা। তবে সেই পছন্দ লোকভবনের রান্নাঘরের উপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়েছে সিপিএমও। কেরলমের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা বলেন, ‘কে কী খাবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। পোশাক, ভাষা এবং খাবার, সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমরা যা খেতে চাই, তা-ই খেতে দিন।’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দনও রাজ্যপালের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতে নিরামিষ ও আমিষ খাবারের মধ্যে নিজের পছন্দ বেছে নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।
সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিতর্কের মধ্যে লোকভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, আমিষ খাবার তৈরি না করার নির্দেশ কেবল রাজ্যপালের খাবারের জন্য।
জানা গিয়েছে, ওই রান্নাঘরে তৈরি খাবার মূলত রাজ্যপাল এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মীদের কয়েকজনের জন্য পরিবেশন করা হয়। লোকভবনের অন্যান্য কর্মীরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন অথবা বাইরে খেয়ে নেন।
তাঁদের খাদ্যাভ্যাসের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। লোকভবন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে কয়েকজন রাজ্যপালের কার্যকালে ওই রান্নাঘরে মাছ ও মাংসের পদও তৈরি করা হত।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=8cmBHdqXlCBWCihK
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে কেরলের ২৯তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন ওম প্রকাশ মাথুর। কেরল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
