ব্রেন টিউমার মানেই ক্যানসার নয়। আধুনিক চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি এবং সময়মতো রোগ শনাক্তকরণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ।
মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চিন্তা, স্মৃতি, কথা বলা, চলাফেরা এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। এই অঙ্গে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি থেকে তৈরি হতে পারে ব্রেন টিউমার। টিউমারের ধরন, আকার, অবস্থান ও বৃদ্ধির গতির ওপর নির্ভর করে রোগের জটিলতা এবং চিকিৎসাপদ্ধতি।
ব্রেন টিউমার কত ধরনের?
ব্রেন টিউমার সাধারণত দুই ধরনের। প্রাইমারি ব্রেন টিউমার মস্তিষ্কের কোষ বা আশপাশের টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে, শরীরের অন্য কোনো অংশের ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে তাকে সেকেন্ডারি বা মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন টিউমার বলা হয়।
টিউমার বিনাইন বা অ-ক্যানসারজনিত হতে পারে, আবার ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারজনিতও হতে পারে। তাই টিউমারের প্রকৃতি নির্ধারণ করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়
ব্রেন টিউমারের লক্ষণ নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশে টিউমার হয়েছে এবং সেটি কতটা বড় তার ওপর। দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমশ বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, খিঁচুনি, হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা এবং কথা বলা বা বুঝতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও আচরণে পরিবর্তন কিংবা শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতাও হতে পারে।
তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ব্রেন টিউমার হয়েছে, এমন নয়। কিন্তু উপসর্গ স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রথমবার খিঁচুনি, হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
কীভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?
ব্রেন টিউমার নির্ণয়ে এমআরআই (গজও) ও সিটি স্ক্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি বা টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের ধরন নির্ধারণ করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নিউরোসার্জারির মাধ্যমে টিউমার অপসারণ, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি অথবা টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও উপযুক্ত পদ্ধতি। অনেক সময় একাধিক চিকিৎসার সমন্বয় প্রয়োজন হয়। তাই অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রোগীর জন্য উপযোগী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।
সচেতনতাই প্রথম পদক্ষেপ
ব্রেন টিউমারের সব ধরন প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় এখনো জানা যায়নি। তবে অস্বাভাবিক উপসর্গ অবহেলা না করা, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ জীবনে ফেরার সুযোগ রয়েছে।ভয় নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই হোক ব্রেন টিউমার মোকাবিলার প্রধান শক্তি।
প্রফেসর ডা. মো. জিল্লুর রহমান
সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড
কো-অর্ডিনেটর
নিউরোসার্জারি বিভাগ
এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা
