পাঁচ দিনের পূজা, আনন্দ-উৎসব আর মিলনমেলার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪টি নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন বিসর্জনস্থলে ভিড় করেন ভক্ত-অনুরাগীরা।
নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফিরিঙ্গি বাজারের অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদী, সমুদ্র উপকূল ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিকেল ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রতিমা আনা হয় সৈকতে। তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান ও মিষ্টিমুখ করিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে সৈকত এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের রেশ, সঙ্গে ছিল বিষাদের ছায়া। প্রার্থনায় ছিল অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি-সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা। আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গা ফিরে আসবেন- এমন আকাঙ্ক্ষায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ কালবেলাকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চলতি বছর প্রচলিত সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং কৈলাসে গমন হবে নৌকায়। প্রচলিত বিশ্বাসে ঘোড়ায় আগমনকে সামাজিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে জলবৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি শস্যবৃদ্ধি, উর্বরতা ও মনোবাসনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
