আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে ‘শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জের ডাক দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝে কড়া ভাষায় বিরোধীদের জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের সরকার বদলের আহ্বান এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এআইএসএ-র এক নেত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত কোনওভাবেই বাংলাদেশ কিংবা ফ্রান্স নয়। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রিজিজু দাবি করেন, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক পটপরিবর্তন কিংবা ফ্রান্সে সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও লুটপাটের মতো অরাজকতা ভারতের রাস্তাতেও নামিয়ে আনার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ভারত-বিরোধী কিছু চক্র এবং সুবিধাভোগী রাজনীতিকরা তরুণ প্রজন্মকে উসকানি দিয়ে দেশের শান্তি বিঘ্নিত করার ছক কষছেন। তবে ভারতের যুবসমাজ দেশকে ধ্বংস করার পথে নয়, বরং খেলাধুলো, নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে মন দিয়েছে বলেই তিনি দাবি করেন।
এই রাজনৈতিক উত্তাপের সূত্রপাত মূলত এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরার সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। সেখানে নেহা মন্তব্য করেছিলেন যে, দিল্লিতে তাঁদের ছাত্র আন্দোলনের মূল অনুপ্রেরণা আসলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশে তরুণরা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে যে লড়াই লড়েছে, ভারতের বর্তমান তরুণ প্রজন্মও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকার হরণ, শিক্ষার গৈরিকীকরণ ও বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের লড়াইয়ে নেমেছে। এই বক্তব্যের ভিডিও নিজের হ্যান্ডেলে জুড়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তোপ দেগে বলেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রীরা ভুলে গেছে যে ভারতে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ হল সাধারণ নির্বাচন। এখানে কোনও বিদেশি শক্তি বা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোসের টাকায় ক্ষমতা বদল সম্ভব নয়।
বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে, বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা তৈরি করে সরকার ফেলে দেওয়ার পেছনে কাজ করে সোরোসের ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’। রিজিজু তাঁর বক্তব্যে সেই অভিযোগের কথাই নতুন করে তুলে ধরেছেন। ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে প্রতিবেশী দেশের মতো ভারতেও জোর করে ক্ষমতা বদলের কোনও নীল নকশা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে বিরোধী ও ছাত্র নেতৃত্বের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিসরে অধিকার ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলাকে অযথা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেগে দিয়ে মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
