‘রাইত অইলে ডর লাগে, কখন জানি ঘর নদীত যায়গি’—কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে এভাবেই আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার উত্তর দেউলগ্রামের নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমার সঙ্গে ভাঙনও কমবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ানীবাজারে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। পানি কমলেও ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাড়, সড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে গ্রামের প্রধান সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায় স্থানীয়দের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বাকি অংশও নদীতে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এতে প্রায় হাজারো পরিবার ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
উত্তর দেউলগ্রামের স্কুলশিক্ষার্থী মাহদি হাসান বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে আমরা স্কুলে যাতায়াত করি। এখন খুব ভয় লাগে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমরা স্কুলে যেতে পারব না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই কোনো না কোনো অংশে নদীর পাড় ভাঙছে। কুড়ারবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী ও উত্তর আকাখাজানা, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল, বালিঙ্গা ও কোনাশালেশ্বর এবং দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া ও নয়া দুবাগেও একই ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দেউলগ্রামের বাসিন্দা ফয়ছল আহমদ বলেন, ‘গত সোমবারের ভাঙন ছিল অস্বাভাবিক। চোখের সামনে রাস্তা ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। আমার জন্মের পর এমন ভাঙন দেখিনি। স্থায়ী বাঁধ না দিলে আমরা ভিটেমাটি হারাব। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে বিয়ানীবাজারের নদীতীরবর্তী এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। তাই দ্রুত কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
