কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে পুনরায় তল্লাশি চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের কোনোটিই চেহারা দেখে শনাক্ত করার উপায় না থাকায় ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বজনরা ঢাকাসহ দেশের
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ ও দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও পুড়ে অঙ্গার ও বিকৃত হয়ে যাওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারছেন না। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের অন্তত ছয়জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
অগ্নিদগ্ধদের উদ্ধার ও চিকিৎসার তথ্যে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি ওপরের তলাগুলো ভেঙে নিচে পড়ায় কেউ চাপা পড়ে আছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই আবার উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে নতুন করে কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। তার মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক লোকেশন বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিহত কয়েকজনের নাম ও পরিচয় প্রকাশ হলেও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার বিকল্প নেই। কক্সবাজারে ল্যাব না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে এবং রিপোর্ট পেতে কিছু দিন সময় লাগবে। পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান ও সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে মরদেহ হস্তান্তর সম্ভব নয়। দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।
