The Sangbad · সাধারণ
ঝুঁকিপূর্ণ ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে তিন স্তরে বাড়তি নিরাপত্তা
১৫/১০/২০২৬

বিশৃঙ্খলা
কিংবা গুজব ছড়ালেই সাথে সাথে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারপ্রতিমা
নির্মাণ থেকে বিসর্জন পর্যন্ত হার্ডলাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীভিআইপি
ও বিদেশি অতিথিদের জন্য থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাশারদীয়
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজা
মণ্ডপে তিন স্তরের কড়া
ও নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা
হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে
চিহ্নিত সন্দেহজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কয়েক
হাজার পূজা মণ্ডপে রাখা
হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকেই
দেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আইন
শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা
দেওয়া শুরু হয়েছে। নিখাদ
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পোশাকধারী
পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে হাজার
হাজার পুলিশ, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট এবং গোয়েন্দা সংস্থার
সদস্যরা পূজা মণ্ডপ ও
তার আশপাশ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা প্রহরে
নিয়োজিত থেকে কঠোর নিরাপত্তা
বলয় গড়ে তুলেছেন।সম্প্রতি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের
সভাপতিত্বে পুলিশ সদর দপ্তরে দুর্গাপূজা
উপলক্ষে দেশব্যাপী সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ
পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় সারাদেশের পূজা
মণ্ডপগুলোর সর্বাত্মক নিছিদ্র ও নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিষদ আলোচনা
করা হয়। পুলিশ সদর
দপ্তরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত
করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে
স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শারদীয় পূজা
উদযাপন উপলক্ষে (প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন, প্রতিমা
বিসর্জন এবং বিসর্জন পরবর্তী
সময়) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত কঠোর ও হার্ডলাইনে
থেকে সার্বিক নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করবে।আজ ১৬ অক্টোবর (মহাষষ্ঠী)
পূজার মূল ধর্মীয় কার্যক্রম
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এই
উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ঢাকা
মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৫৮টি পূজা মণ্ডপ এবং
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৭৭টি পূজা মণ্ডপে সাড়ম্বরে
পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটনে (আরএমপি) ১০৭টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে (কেএমপি) ১১৭টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে (বিএমপি) ৮৮টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে (এসএমপি) ১৫৪টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে (জিএমপি) ১২২টি এবং রংপুর মেট্রোপলিটনে
(আরপিএমপি) ১৬৭টি পূজা মণ্ডপ তৈরি
করা হয়েছে।বিভাগীয়
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন
জেলায় ৭ হাজার ৩১৪টি,
চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ৪৬০টি,
রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৫৬৯টি,
সিলেট বিভাগে ২ হাজার ৫৪৯টি,
খুলনা বিভাগে ৪ হাজার ৭২৬টি,
রংপুর বিভাগে ৫ হাজার ২৫২টি,
বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৬০৪টি
এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৬৯৯টি
পূজা মণ্ডপসহ মোট ৩২ হাজার
৪৬৩টি তালিকাভুক্ত বড় মণ্ডপ রয়েছে।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় আরও অসংখ্য ছোটখাটো
পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে,
সব মিলিয়ে এ বছর সারাদেশে
মোট পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার ছুঁয়েছে।প্রাপ্ত
সরকারি তথ্যানুযায়ী, বিজয়া দশমীর নির্দিষ্ট দিনে দেশের প্রায়
২৭ হাজার ২১১টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা
বিসর্জন সম্পন্ন হবে। এরপর বিজয়া
দশমীর পরবর্তী দিনে বিসর্জন দেওয়া
হবে ১ হাজার ৪৯৪টি
মণ্ডপের প্রতিমা। অন্যদিকে পারিবারিক ও অন্যান্য স্থায়ী
কারণে বিসর্জন দেওয়া হবে না এমন
পূজা মণ্ডপের সংখ্যা রয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭টি।বছরের
ব্যবধানে পূজামণ্ডপের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে,
চলতি বছর সারাদেশে প্রায়
৩৩ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ২০২৫ সালে
এই সংখ্যাটি ছিল ৩১ হাজার
৫৭৬টি, ২০২৪ সালে ছিল
৩২ হাজার ৬৬৬টি, ২০২৩ সালে ছিল
৩২ হাজার ৪০৭টি, ২০২২ সালে ছিল
৩২ হাজার ১৬৮টি এবং ২০২১ সালে
সারাদেশে মোট ৩১ হাজার
৫০৭টি মণ্ডপে পূজা আয়োজিত হয়েছিল।
জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি
বছর সর্বাধিক পূজা মণ্ডপ রয়েছে
চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪৮টি।
এছাড়া দিনাজপুরে ১ হাজার ২৯১টি,
গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২৬৬টি,
টাঙ্গাইলে ১ হাজার ১৬৪টি,
মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৩টি,
নীলফামারীতে ৮৫২টি, খুলনায় ৮২৮টি, নওগাঁয় ৮০৭টি, ময়মনসিংহে ৭৮৩টি এবং রাজধানী ঢাকায়
৭৬৯টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।সার্বিক
নিরাপত্তা জোরদারে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব মন্দির, পূজা
মণ্ডপ এবং নির্মাণাধীন প্রতিমার
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি
টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি
ব্যাপক বৃদ্ধি করার স্পষ্ট নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি থানার
অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নিজ নিজ
এলাকার মন্দির, পূজা মণ্ডপ, নির্মাণাধীন
প্রতিমা এবং প্রতিমা তৈরির
স্থানসমূহ ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে।
একই সাথে সংশ্লিষ্ট পূজার
আয়োজক কমিটির সাথে সব সময়
নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা
রয়েছে।পূজা
মণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকি ও সরজমিনে পরিদর্শনের
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণ প্রতিবার মণ্ডপ পরিদর্শনের পর সেখানে রক্ষিত
সংরক্ষিত রেজিস্টারে পরিদর্শন করার নির্দিষ্ট তারিখ
ও সময় উল্লেখ করে
নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য লিপিবদ্ধ
করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির
সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করবেন এবং পরস্পর জরুরি
ফোন নম্বর সংরক্ষণ করবেন। এছাড়া নির্মাণাধীন প্রতিমা ও তৈরির স্থানের
পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণস্থলে
বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন
ও তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং
করার কড়া নির্দেশ জারি
রয়েছে।পূজা
উপলক্ষে দেশের সব নিষিদ্ধ ঘোষিত
সংগঠনের যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর মনিটরিং
বজায় রাখা এবং জামিনে
মুক্তিপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি
কয়েক গুণ বৃদ্ধি করার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে
চিহ্নিত পূজা মণ্ডপগুলোতে বিশেষ
নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; যেখানে
প্রয়োজন মনে হবে সেখানে
মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার এবং আর্চওয়ে গেট
স্থাপন করতে হবে। ভিভিআইপি,
ভিআইপি ও বিদেশি অতিথিদের
পরিদর্শনকালীন সময়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।একই
সাথে পূজা উদযাপন কমিটি
কর্তৃক প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নারী
ও পুরুষ দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য পৃথক প্রবেশ
ও বের হওয়ার পথের
ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো
পূজা মণ্ডপে কেউ বিশৃঙ্খলা বা
অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে
গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মণ্ডপ
এলাকায় যেন কোনো ধরণের
যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য
ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।পূজা
মণ্ডপ ও তার সংলগ্ন
এলাকায় জুয়া, হাউজিং, আতশবাজি বা পটকা ফুটানো
সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের বিশেষায়িত বম ডিসপোজাল ইউনিট
এবং ক্রাইম সিন ভ্যান সর্বদা
প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি
প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর
মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সহায়তা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রতিমা
বিসর্জন ও বিসর্জন পরবর্তী
সময়েও সর্বোচ্চ কড়া নিরাপত্তা বহাল
থাকবে। বিসর্জনের নির্দিষ্ট স্থানগুলোর তালিকা আগেভাগেই সংগ্রহ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত
করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং বিসর্জনের সময়ে
নদীতে নৌ-টহল জোরদার
রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি
আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পূজা
চলাকালে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার থেকে
২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে একটি
জয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন সেল
সক্রিয় থাকবে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক সারা
দেশের মনিটরিং চালানো হবে। মাঠ পর্যায়ের
ওসিদের মতে, ইতোমধ্যে এলাকাভিত্তিক
পুলিশ ও আনসার বাহিনীর
টহল বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়
সব সংস্থাকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে
কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗