কুষ্টিয়া থেকে রাজ্জাক বিশ্বাস :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পরিবারের অজান্তে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া তিন কিশোরী এবং তাদের নারায়ণগঞ্জের এক সঙ্গীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ এই চার কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক ও ‘বিয়ে’র মাধ্যমে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী কাউকে কিছু না জানিয়ে একযোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। বাধ্য হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও পরিকল্পনা
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেম ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের অপর দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরবর্তীতে এই চার কিশোরী একত্রে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী ঢাকায় চলে যায় এবং নারায়ণগঞ্জের সেই কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হয়।
ঢাকায় এসে চার কিশোরী সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। পুলিশের কাছে কিশোরীদের দেওয়া ভাষ্যমতে, ভাড়া বাসায় দুই কিশোরী পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে নিজেদের মধ্যে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস শুরু করে। বাকি দুই কিশোরীও একই বাসায় তাদের সাথে অবস্থান করছিল।
পুলিশি অভিযান ও উদ্ধার
ঘটনাটি তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয় পুলিশ। মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুরের সেই ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী চার কিশোরীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান:
“টিকটক গ্রুপের মাধ্যমেই কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। খবর পেয়ে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরী এবং নারায়ণগঞ্জের আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

