আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। বেতন কাঠামো, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, পেনশন-সহ একাধিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করতে পারে এই কমিশন। বর্তমানে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীদারদের মতামত সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে কমিশন। চলতি মাসের শেষের দিকে মুম্বইয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে। ১.৮৩, ২, ২.৫৭ অথবা ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হলে কতটা বাড়তে পারে বেতন? দেখে নেওয়া যাক হিসাব।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী?
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল একটি গুণক, যার সাহায্যে পুরনো বেসিক বেতনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পুরনো মূল পেনশন থেকে সংশোধিত পেনশন নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এর সাধারণ হিসাব হল, বর্তমান বেসিক বেতন × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = সংশোধিত বেসিক বেতন। উদাহরণ হিসেবে, সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হওয়ার পরে ন্যূনতম বেসিক বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল।
অষ্টম বেতন কমিশনে কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি?
অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠন নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করেছে। কয়েকটি সংগঠন ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের একাংশের রক্ষণশীল অনুমান ১.৮৩ থেকে ২-এর মধ্যে। মাঝারি অনুমান অনুযায়ী, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২ থেকে ২.৫৭ হতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত অষ্টম বেতন কমিশন কোনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত করেনি। ফলে এই সংখ্যাগুলিকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে, সরকারি ঘোষণা হিসেবে নয়।
কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে কত বেতন হতে পারে?
বর্তমান বেসিক বেতন ১৮,০০০ টাকা ধরে সম্ভাব্য হিসাব করলে—
১.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩২,৯৪০ টাকা।
২ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩৬,০০০ টাকা।
২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৪৬,২৬০ টাকা।
৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৬৮,৯৪০ টাকা।
এই হিসাব শুধুমাত্র বেসিক বেতনের গুণিতক অনুযায়ী করা হয়েছে। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের সময় কমিশনের সুপারিশ, বেতন ম্যাট্রিক্স, ভাতা এবং কেন্দ্রের অনুমোদিত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই এই অঙ্কগুলিকে নিশ্চিত বেতনবৃদ্ধি হিসেবে ধরা যাবে না।
কবে কার্যকর হতে পারে অষ্টম বেতন কমিশন?
অষ্টম বেতন কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কমিশনের সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কমিশন গঠিত হওয়ায়, ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়ার কথা।
এর পর কেন্দ্রীয় সরকার সুপারিশগুলি পর্যালোচনা করে অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে রিপোর্ট জমা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বর্ধিত বেতন হাতে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চূড়ান্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতনবৃদ্ধি এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা জানতে সরকারি ঘোষণার দিকেই নজর রাখতে হবে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
