একটি ম্যাচ, কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর শেষ মুহূর্তের হার। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ সামলাতে পারেনি মিসর শিবির। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন কোচ হোসাম হাসানসহ দলের সংশ্লিষ্টরা। এবার সেই সমালোচনার জেরেই শাস্তির মুখে পড়েছেন মিসরের কোচ, জাতীয় দলের পরিচালক ও এক ফরোয়ার্ড। কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচ এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিসর। ওই ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় এই শাস্তির মুখে পড়েছেন তারা। গতকাল এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্তকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ৬০ বছর বয়সী কোচ হোসাম হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তার অভিযোগ ছিল, মাঠের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কয়েকটি বিষয় ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘মাঠের ভেতরে কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরে কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে। হয়তো তারা চেয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল, মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
হাসান আরও বলেন, ‘বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বলতে চাই, “দুর্ভাগ্য”, কিন্তু বাস্তবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, ম্যাচ শেষে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। একই ঘটনায় হোসাম হাসানের যমজ ভাই ও মিসর জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
ইএফএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান তিন ম্যাচ করে এবং মোস্তফা জিকো পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করতে নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে। ম্যাচের শেষ দিকে ২-২ সমতায় থাকা অবস্থায় পেনাল্টির আবেদন করেছিল মিসর, তবে তা নাকচ করে দেন রেফারি। এর আগে বিল্ডআপে ফাউলের অভিযোগে জিকোর একটি গোলও বাতিল করা হয়েছিল।
ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি মিসর। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
রেফারিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তার বক্তব্য, রেফারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তাদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়বে মিসরের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতেও। আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে পাবে না দলটি। আগামী মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জিকোকে আগামী জুন পর্যন্ত জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: মিসর ফুটবল দল
০৯ জুলাই ২০২৬
