মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নয়জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শহীদুল ইসলাম ও তার মেয়ে তাছফিয়া।
পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পথে। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হলো একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছেলে মো. লাবিব।
গতকাল সোমবার বিকালে আরপি নাইস পরিবহনের একটি বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। বাস কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি বিকাল ৪টার দিকে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসে। রুবিনা বেগম ও দুই সন্তান পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে বাসে ওঠেন। পরে মাগুরা থেকে বাসটিতে ওঠেন শহীদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নয়জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শহীদুল ইসলাম ও তার মেয়ে তাছফিয়া।
শহীদুলের ফুফাতো ভাই সুজন হাওলাদার জানান, বাবা ও মেয়ের মরদেহ সুবিদখালীর গ্রামের বাড়িতে নেয়া হচ্ছে। স্বজনেরা তাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে যাদের ফিরে আসার অপেক্ষা, তারা ফিরছেন নিথর দেহে।
শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পাঁচ বছরের তাছফিয়া স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায় পড়ত। ছেলে লাবিব সুবিদখালী আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা আরব আলীর ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), মোল্লাকান্দির জাহান উদ্দিন মোল্লার আত্মীয় শালাল মোল্লা (৪৫) এবং কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫)।
নিহতদের মধ্যে আরো রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক আবুল কালাম, নওগাঁর শান্তাহারের সাজ্জাদ আলীর ছেলে রাসেল আলী (৩৩) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখনদিয়া এলাকার ওমর কুমার জমাদারের ছেলে হিমেজ জমাদার (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসন ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
