বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বয়স কম দেখিয়ে ১৭ বছর চাকরি করার অভিযোগে আনা হয়েছে মামলায়। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে অভিযুক্ত আজাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির (এসএওসিএল) কর্মচারী ও এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি কায়সার হামিদ। আদালত মামলাটি তিনটি ধারায় আমলে নিয়ে বিবাদির অনুকূলে সমন ইস্যু করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালে নিয়োগের সময় বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে উপ-ব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে তার বয়স চাওয়া হয়েছিল ৩৩ বছর। কিন্তু তখন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন। মামলার আরজিতে তার দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদপত্র জাল বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয় চারটি ঘটনা।
মামলার বাদী কায়সার হামিদ বলেন, এই কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতা। ২০০৯ সালে বয়স লুকিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠায় মরিয়া ছিলেন। এরপর নানা অনিয়মে জড়িয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপ করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত
করার জন্য বিপিসিকে বলা হলেও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে বিপিসির উপব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) পদে নিয়োগ পান মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ। গত ১৭ বছরে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সর্বশেষ মহাব্যবস্থাপক হন। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ রুবায়েত খান উল্লিখিত কর্মকর্তার বয়স জালিয়াতির তদন্ত করে ৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে ৩৬ বছর ২ মাস ২০ দিন উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তা নিজের দায় এড়াতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের সুপারিশে স্পর্শকাতর বিষয়টি তিন সদস্যের কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত করার জন্যও বলা হয়। কিন্তু এরপর আর এগোয়নি বিষয়টি।
জানা গেছে, বিপিসির অধস্তন প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির (এসএওসিএল) নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ ওমরাহ পালনের জন্য গেলে ১ অক্টোবর মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে ১৫ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর আগের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কর্মচারিরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া দেখান। ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনাস্থা দিয়েছেন। দুজন পরিচালকও তার ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছেন। তার দুনীতির বিষয়ে দুদক থেকে তদন্তের জন্য বলা হলেও তদন্ত হয়নি। ৪ অক্টোবর সাড়ে ১১টায় স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
